14.7 C
London
October 29, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার চেয়ে বাংলাদেশের জনগণই ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণঃ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষের স্বার্থ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা রয়েছে।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অডিটোরিয়ামে ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড ব্রিকস: দ্য ওয়ে এহেড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শ্রিংলা। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ভারতের সাবেক এই শীর্ষ কূটনীতিক।

শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শ্রিংলা বলেন, শেখ হাসিনা কী বলছেন, সেটি তার নিজের এবং বাংলাদেশের মধ্যকার বিষয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বা বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই—ভারত সরকার এ অবস্থান আগেও একাধিকবার জানিয়েছে।

শ্রিংলার বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপকে ভারত সরকারের অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি মূলত তার নিজের সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, ভারত সবসময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ভারতীয় ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থেই দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তার মতে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ভারত ও বাংলাদেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছে, তা কীভাবে কাটবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, কোনো না কোনো একসময় দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতেই হবে। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রিংলা বলেন, তারেক রহমান একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কাজ করাটা স্বাভাবিক বিষয়। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়লে সেটি একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলেও তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ যে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শ্রিংলার বক্তব্যে সেই বার্তাই উঠে এসেছে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিনের ও ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করে জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

এদিকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণ নিয়েও কথা বলেন শ্রিংলা। তিনি জানান, ভারত তার ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের’ আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর আগে জি-৭ সম্মেলনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ নেবে কি না, সেটি বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত বলেও জানান শ্রিংলা। তবে তার মতে, সম্মেলনে অংশ নিলে বাংলাদেশের জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পেছনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও শ্রিংলার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার আলোকে দেখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং জনগণের পারস্পরিক স্বার্থ অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

শ্রিংলার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক ও সহযোগিতামূলক পথে এগিয়ে যেতে পারে। এ জন্য দুই দেশের সরকারকে বাস্তবতা মেনে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে।

সূত্রঃ ডেইলি সান

এম.কে

আরো পড়ুন

দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

ফজলুর রহমানবিরোধী স্লোগান থেকে চাঁদাবাজি মামলাঃ গ্রেপ্তার ফারজানা

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে যা বলল চীন