27.6 C
London
August 9, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্যের তদন্তে গ্রেপ্তার অভিনয়শিল্পী ডনঃ ২৯ বছর পর হত্যা মামলা

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডি। রোববার দুপুরে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করার পর সিআইডির একটি দল তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রোববার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান। তিনি জানান, দুপুরে বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। খবর পেয়ে সিআইডির কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে আসেন। এরপর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে আদালতে হাজির করার কার্যক্রম শুরু হয়।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর ঘটনাটি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় এই নায়কের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা থাকলেও বিভিন্ন সময়ে করা তদন্তে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

পুরোনো তদন্ত নথি অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করেছে। সর্বশেষ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই তদন্ত শেষে তাদের প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যাজনিত বলে উল্লেখ করে। তবে সালমান শাহর পরিবার ও তার অসংখ্য ভক্ত ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তদন্তের পথ খুলে যায়। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার মধ্যে আদালতও মামলাটি তদন্ত ও হত্যা মামলা হিসেবে পরিচালনার নির্দেশ দেন। গত বছর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ-সংক্রান্ত আদেশ দেন।

এরপর মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—সিআইডিকে। বর্তমানে সিআইডি মামলাটির তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ডনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সালমান শাহর মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচিত মামলায় নতুন করে তদন্তের গতি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে মামলায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য, তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসায় সালমান শাহর মরদেহ পাওয়া যায়। তার অকালমৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন ও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করে। মৃত্যুর পর থেকেই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে।

সালমান শাহর পরিবার ও ভক্তদের একটি অংশ শুরু থেকেই তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন তদন্তে আত্মহত্যার তথ্য উঠে এসেছে। ফলে প্রায় তিন দশক ধরে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

এখন সিআইডির তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে। ডনকে আদালতে হাজির করার পর মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা নতুন পর্যায়ে পৌঁছানোয় তার পরিবার, ভক্ত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষের মধ্যে আবারও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

‘ফোনে আপা আপা বলা’ আ. লীগকর্মী তানভীর বহিষ্কার

শ্রীমঙ্গলে অস্ত্র ও মাদকসহ ব্রিটিশ নাগরিক আটক

জাপানে প্রয়োজন ১ কোটি কর্মী, সাত দিনের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা