সিলেটে পুলিশি হেফাজতে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত হত্যা মামলায় সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় কনস্টেবল হারুনুর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্য তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের অক্টোবরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পুলিশি হেফাজতে একজন তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, জবাবদিহি ও হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধের বিষয়গুলো সামনে আসে।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে। পরদিন ১১ অক্টোবর সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ছিলেন এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া।
রায়হানের পরিবারের অভিযোগ ছিল, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, রায়হানকে মুক্তি দিতে টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানেও হেফাজতে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়।
রায়হানের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ১১১টি আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।
ঘটনার পর এসআই আকবরসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আসামিদের মধ্যে ছিলেন এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন এবং আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে ২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচারাধীন ছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান আকবর। পরে তার জামিন স্থগিত করা হলেও নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় তিনি পলাতক ছিলেন বলে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়।
পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর এ ঘটনা বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি এবং হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ঘোষিত এ রায় রায়হানের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এমকে

