আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলোতে কার্যকর হতে যাচ্ছে স্কুল ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নতুন সরকারি নীতিমালা। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ কমাতে লেবার সরকার এই পরিবর্তন আনছে, যার ফলে অভিভাবকদের ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডেড ইউনিফর্ম কেনার বাধ্যবাধকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্কুল অভিভাবকদের তিনটির বেশি ব্র্যান্ডেড বা স্কুলের লোগোযুক্ত ইউনিফর্ম কিনতে বাধ্য করতে পারবে না। তবে মাধ্যমিক ও মিডল স্কুলে যদি টাই বাধ্যতামূলক ইউনিফর্মের অংশ হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারটি ব্র্যান্ডেড আইটেম নির্ধারণের সুযোগ থাকবে।
সরকার আরও নির্দেশ দিয়েছে, প্রতিটি স্কুলকে সেকেন্ড-হ্যান্ড বা ব্যবহৃত ইউনিফর্মের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং কীভাবে অভিভাবকরা এসব ইউনিফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন, সে সম্পর্কিত তথ্য স্কুলের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
সরকারের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডেড ইউনিফর্ম কিনতে বাধ্য হওয়ার কারণে অনেক পরিবার আর্থিক চাপে পড়ছিল। নতুন এই নীতির মাধ্যমে অভিভাবকদের অতিরিক্ত খরচ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ইউনিফর্ম সহজলভ্য করাই সরকারের লক্ষ্য।
এদিকে আর্থিক পরামর্শ প্রতিষ্ঠান মানি ওয়েলনেস জানিয়েছে, তাদের গবেষণায় দেখা গেছে অনেক অভিভাবক এখনো জানেন না যে সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। ফলে সচেতনতা বাড়ানোও সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি সেব্রিনা ম্যাককালো বলেন, স্কুল ইউনিফর্ম এমন একটি ব্যয়, যা এড়ানোর সুযোগ নেই এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হওয়ায় অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। তার মতে, নতুন নিয়মটি ইতিবাচক হলেও অনেক পরিবার এখনো সন্তানদের ইউনিফর্ম কিনতে ঋণ বা ‘বাই নাউ, পে লেটার’ সুবিধার ওপর নির্ভর করছে, যা নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই তাদের ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দেয়।
তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইউনিফর্মের খরচ বহন করতে সমস্যা হলে ঋণ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। কারণ অনেক স্কুলেই সেকেন্ড-হ্যান্ড ইউনিফর্ম বিক্রি, আর্থিক সহায়তা কিংবা কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে হাজার হাজার পরিবারের স্কুল-সংক্রান্ত ব্যয় কমবে এবং চলমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মধ্যে অভিভাবকদের জন্য তা উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনবে।
সূত্রঃ মিরর
এম.কে

