যুক্তরাজ্যের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিবিসির তথ্য যাচাই বিভাগ ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকার ভিসা নীতিতে কঠোরতা আরোপের দাবি করলেও এখনো দেশজুড়ে হাজারো ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী স্পনসর করার লাইসেন্স ধরে রেখেছে। এই অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাকিব এহসান সরকারের অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধান অনুযায়ী, বর্তমানে এক হাজার ৯০০-এরও বেশি ছোট হাই স্ট্রিট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, কনভিনিয়েন্স স্টোর, ট্যাক্সি অপারেটর, নরসুন্দর দোকান, গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র এবং ভেপের দোকান—বিদেশি কর্মী স্পনসর করার অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে। অথচ স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা মূলত উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকার স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার নিয়ম পরিবর্তন করে জানায়, স্নাতক-স্তরের দক্ষতা এবং বছরে ন্যূনতম ৪১ হাজার ৭০০ পাউন্ড বেতনপ্রাপ্ত কর্মীরাই এই ভিসার আওতায় আসবেন। সরকারের দাবি ছিল, নতুন নিয়মে বিদেশি কর্মী নিয়োগ আরও সীমিত ও বাছাইভিত্তিক হবে।
তবে রাকিব এহসান তার মতামতধর্মী নিবন্ধে দাবি করেন, বিবিসির অনুসন্ধান প্রমাণ করে যে বাস্তবে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা ব্যবস্থা এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় কঠোর নয়। তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থার কারণে এমন অনেক খাত বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে, যা সরকারের ঘোষিত নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন অনুমোদিত পেশার তালিকা নিয়েও। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার আওতায় এখনো জাদুশিল্পী, কবি, ডিজে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা এবং ব্লগারের মতো কিছু পেশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সমতা, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি ব্যবস্থাপক পদকেও উচ্চ দক্ষতার পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।
রাকিব এহসানের মতে, একটি কার্যকর অভিবাসন নীতিতে এমন বিদেশি কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, যারা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন, রাষ্ট্রের জন্য আর্থিকভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন এবং সহজে ব্রিটিশ সমাজের মূলধারায় একীভূত হতে সক্ষম হবেন।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

