TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে ইউরোপীয় যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি ইরানেরঃ উত্তেজনা আরও তীব্র

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থান নেওয়া যেকোনো ইউরোপীয় যুদ্ধজাহাজ ইরানের দৃষ্টিতে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

গারিবাবাদি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পথেই অগ্রাধিকার দিতে চায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সংলাপের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে তার অভিযোগ, গত পনেরো দিনে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করছে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই এ সক্ষমতা থেকে সরে আসবে না।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরানের সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বহু বছর সময় লাগবে।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে এবং তারা যেসব জাহাজকে পারাপারের অনুমতি দিতে চায়, কেবল সেগুলোই নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। তবে এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, হোয়াইট হাউসে একই দিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, উভয় বৈঠকই ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে।

বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দেন, তাঁর আলোচনায় ইরান পরিস্থিতি অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ঘনিষ্ঠ মহলে বাইডেনকে নিয়ে ওবামা ও পেলোসির উদ্বেগ

দিনের বেলায় অল্প ঘুম কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে

ভারতের রাজস্বে নতুন অধ্যায়ঃ ‘গরু ট্যাক্স’ থেকে বছরে ₹৩,০০০ কোটি আয়