মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে একাধিক দেশের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে দেশটি।
এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীতে আবারও অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালীতে বহু জাহাজ ও নাবিক আটকে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা উভয়েই দ্রুত জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি “বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা” গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে যে, ইরান প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতে পারে।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন বৈঠকে সংঘাতের টেকসই সমাধান খোঁজার পাশাপাশি ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ—যেমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ—গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রণালীতে আটকে পড়া হাজার হাজার জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপদে মুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। ফলে এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

