মাত্র ১১ বছর বয়সে দাবায় বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ব্রিটিশ কিশোরী বোধানা শিবানন্দন। তিনি ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নারী গ্র্যান্ডমাস্টার বা ডব্লিউজিএম (WGM) খেতাব অর্জন করেছেন।
উজবেকিস্তানের সামরকন্দে অনুষ্ঠিত ৪৬তম দাবা অলিম্পিয়াডে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে গিয়ে বোধানা তার তৃতীয় ও শেষ ডব্লিউজিএম নর্ম অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন (ফিদে) তার এই অর্জন নিশ্চিত করেছে।
ডব্লিউজিএম খেতাব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৩০০ রেটিংয়ের শর্তও বোধানা আগেই পূরণ করেছিলেন। শেষ নর্ম অর্জনের মধ্য দিয়ে তার খেতাব পাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ফিদেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোধানা বলেন, এই অর্জনে তিনি খুশি। তবে এখানেই থেমে যেতে চান না; বরং ভবিষ্যতেও ইতিহাস গড়ে যেতে চান।
সামরকন্দে ইংল্যান্ডের হয়ে ১১টি রাউন্ডেই দলের প্রথম বোর্ডে খেলেছেন বোধানা। টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন মোট আট পয়েন্ট নিয়ে।
এর আগে নারী গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব অর্জনের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড ছিল রাশিয়া ও ইউক্রেনের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা কাটেরিনা লাগনোর দখলে। তিনি ১২ বছর বয়সে এই খেতাব অর্জন করেছিলেন। চীনের দাবাড়ু হৌ ইফানও ১২ বছর বয়সে ডব্লিউজিএম হন। তবে হৌ ইফান ১৪ বছর বয়সে ওপেন গ্র্যান্ডমাস্টার (GM) খেতাব অর্জন করে এখনো সর্বকনিষ্ঠ নারী ওপেন গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে রেকর্ড ধরে রেখেছেন।
নারী গ্র্যান্ডমাস্টার খেতাব একজন নারী খেলোয়াড় অর্জন করতে পারেন এমন সর্বোচ্চ নারী-নির্দিষ্ট খেতাব এবং এটি আজীবন বহাল থাকে।
বোধানার সাম্প্রতিক সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাস্টার (IM) খেতাবের পথেও এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সামরকন্দে তিনি দ্বিতীয় আইএম নর্ম অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক মাস্টার হতে সাধারণত তিনটি নর্ম এবং কমপক্ষে ২৪০০ রেটিং প্রয়োজন হয়।
বোধানা বলেন, দাবা খেলার পাশাপাশি তিনি ভ্রমণ করতেও পছন্দ করেন। পূর্ণকালীন স্কুলে পড়াশোনার সঙ্গে দাবা খেলাকে মিলিয়ে নেওয়ার কারণে বিভিন্ন স্কুল বিষয়েও এর উপকার পান বলে জানান তিনি।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় নিজে নিজেই দাবা শেখা শুরু করেন বোধানা। এরপর ২০২১ সালের জুলাইয়ে হ্যারো চেস ক্লাবে প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
মাত্র এক বছর পর, সাত বছর বয়সে ইউরোপিয়ান স্কুলস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে ২৪টি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পান তিনি।
২০২৩ সালে ক্রোয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান র্যাপিড অ্যান্ড ব্লিটজ চ্যাম্পিয়নশিপে একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গ্র্যান্ডমাস্টারের কাছে হার না মেনে ইতিহাস গড়েন তিনি।
পরের বছর, মাত্র নয় বছর বয়সে, বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত দাবা অলিম্পিয়াডে ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান বোধানা। ইংলিশ চেস ফেডারেশনের মতে, এর মাধ্যমে তিনি যেকোনো খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করা সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হন।
গত বছর ১০ বছর বয়সে ব্রিটিশ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে পিটার ওয়েলসকে হারিয়ে গ্র্যান্ডমাস্টারকে পরাজিত করা ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ নারী দাবাড়ু হন বোধানা।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ফ্রান্সের ডোল ওপেনে প্রথম আইএম নর্ম অর্জন করেন তিনি। ১১ বছর চার মাস বয়সে এই নর্ম অর্জনের মাধ্যমে সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন। একই প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ডমাস্টার মার্ক-আন্দ্রিয়া মরিজ্জিকে হারিয়ে ২৬০০-এর বেশি রেটিংধারী কোনো খেলোয়াড়কে ক্লাসিক্যাল দাবায় পরাজিত করা সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে হিসেবেও পরিচিতি পান তিনি।
বোধানার বাবা শিবা এর আগে বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, তার মেয়ের এই প্রতিভার উৎস সম্পর্কে তিনি নিজেও জানেন না। কারণ তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করলেও দাবায় দক্ষ নন।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

