TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

২০৬৩ সালের মধ্যে ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা’ যুক্তরাজ্যে সংখ্যালঘু হয়ে যাবেঃ রুপার্ট লোয়ে

ব্রিটেনে জাতীয় পরিচয় ও ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ’ পরিচয়ের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রিস্টোর ব্রিটেনের নেতা ও গ্রেট ইয়ারমাউথের এমপি রুপার্ট লোয়ের মন্তব্যকে ঘিরে। একটি সাক্ষাৎকারে রাজা তৃতীয় চার্লসকে ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ’ হিসেবে তিনি মনে করেন কি না—সরাসরি এই প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান লোয়ে।

বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ লোয়ের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান লোয়ে অ্যান্ড অলিভার চলতি বছরের শুরুতে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে রয়্যাল ওয়ারেন্টধারী প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছে। বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লোয়ে নিজে। ফলে একদিকে রাজপরিবারের কাছ থেকে তার পারিবারিক ব্যবসার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি রয়েছে, অন্যদিকে রাজপরিবারের প্রধানের জাতিগত পরিচয় নিয়ে তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নিক রবিনসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিষয়টি সামনে আসে। এর আগে প্রকাশিত এক ভিডিওতে লোয়ে দাবি করেছিলেন, ২০৬৩ সালের মধ্যে ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা’ যুক্তরাজ্যে সংখ্যালঘু হয়ে যাবে। একই ভিডিওতে তিনি নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে রবিনসন তাকে জানান, লোয়ে যে প্রতিবেদনের পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করেছেন, সেখানে ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ’ বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যার বাবা-মা দুজনই যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন। এই সংজ্ঞা সামনে রেখে তিনি প্রশ্ন করেন, রাজা তৃতীয় চার্লসকে কি লোয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ’ মনে করেন? কারণ রাজার বাবা প্রিন্স ফিলিপ জন্মগ্রহণ করেছিলেন গ্রিসে।

লোয়ে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’- না বলে বলেন, এ বিষয়ে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ‘সূক্ষ্ম পার্থক্য’ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু রবিনসন প্রশ্নটি আরও স্পষ্ট করে আবার জানতে চান—এই দেশের রাজা কি একজন ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ’?

এরপরও লোয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে ব্রিটিশ সমাজে পরিচয় ও জনমত নিয়ে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, তারা যে বাস্তবতার কথা বলছেন তা স্পষ্ট এবং অধিকাংশ ব্রিটিশ মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারা তার সঙ্গে একমত হবেন।

লোয়ে আরও দাবি করেন, রিস্টোর ব্রিটেনের সদস্যসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে তিনি বিবিসির শ্রোতা কমছে বলে মন্তব্য করে অভিযোগ করেন, মূলধারার গণমাধ্যম দেশের বাস্তব পরিস্থিতির যথাযথ প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না এবং কিছু বিষয়কে ‘আড়াল’ করার চেষ্টা করছে।

রুপার্ট লোয়ের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন রিস্টোর ব্রিটেনের রাজনীতি ও ব্রিটিশ পরিচয়ের সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। দলটির নেতারা অভিবাসন, জাতিগত পরিচয় এবং ব্রিটিশত্বের বিষয়গুলোকে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।

এর আগে রিস্টোর ব্রিটেনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা চার্লি ডাউনসের মন্তব্যও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেছিলেন, খ্রিস্টানদের তুলনায় মুসলিমরা ‘কম ব্রিটিশ’। তার বক্তব্যের পর বিভিন্ন মুসলিম ও ধর্মীয় সংগঠন এটিকে বিভাজনমূলক ও বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করে।

ফলে লোয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুধু রাজা তৃতীয় চার্লসের জাতিগত পরিচয় নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং প্রশ্ন উঠছে—আধুনিক ব্রিটেনে ‘ব্রিটিশ’ পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বংশপরিচয়, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

সমালোচকদের মতে, ব্রিটিশত্বকে নির্দিষ্ট ধর্ম বা বংশপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে দেশটির বহু-জাতি ও বহু-ধর্মীয় সমাজে বিভাজন আরও গভীর হতে পারে। অন্যদিকে রিস্টোর ব্রিটেনের অবস্থানকে সমর্থনকারীরা দাবি করছেন, দলটি ব্রিটিশ সংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয় ও অভিবাসন নিয়ে এমন প্রশ্ন তুলছে, যেগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে রুপার্ট লোয়ের সাক্ষাৎকারটি ব্রিটেনে জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে তার নিজের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান যখন রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে রয়্যাল ওয়ারেন্ট পেয়েছে, তখন একই রাজার ‘শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ’ পরিচয় নিয়ে সরাসরি অবস্থান না নেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেন ধীরে ধীরে তৃতীয় বিশ্বের দেশে পরিণত হচ্ছে

দ্বৈত নাগরিকত্বে বাধাঃ ব্রিটিশ নারী মায়ের শেষ মুহূর্তে দেখা করতে পারছেন না

ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘যুব অভিজ্ঞতা’ স্কিম ১২ মাসের ওয়ার্ক ভিসা চালুর সম্ভাবনা