যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যেই বসবাসরত তিন লাখ শিশু স্থায়ী বসবাসের জন্য দশ বছরের অপেক্ষা করতে হতে পারে, যদি হোম অফিসের “আর্নড সেটলমেন্ট” নীতি পরিবর্তন কার্যকর হয়। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই সেটলমেন্ট পথে থাকা প্রায় এক চতুর্থাংশ শিশু, যারা তাদের পরিবারের ওয়ার্ক ভিসার ওপর নির্ভরশীল।
সরকার চাইছে বেশিরভাগ মাইগ্র্যান্ট কর্মীর জন্য স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় পাঁচ বছর থেকে দশ বছরে বাড়ানো। নিচু শিক্ষাগত পর্যায়ের চাকরিতে যারা কাজ করছেন – যেমন অনেক কেয়ার ওয়ার্কার – তাদের জন্য সময় পনেরো বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। তবে প্রায় চল্লিশ জন লেবার এমপি এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিশেষত পুরাতন নিয়মের মধ্যে যারা ইউকে এসেছিলেন তাদের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আইপিপিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন পরিবারগুলোকে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেবে। শিশুদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষা, স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স ও স্থিতিশীল চাকরির সুযোগও বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। নিম্ন আয়ের পরিবার, বিশেষ করে কেয়ার ওয়ার্কারদের মতো পেশার জন্য শিশুর দারিদ্র্যতা বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইপিপিআর-এর মারলে মোরিস বলেছেন,
“যারা একটি নিয়মের অধীনে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, তাদের জন্য লক্ষ্য পরিবর্তন করা অন্যায়। তিন লাখ শিশুর জন্য এটি শুধু নীতি নয়; এটি দীর্ঘকাল অনিশ্চয়তার মধ্যে বড় হওয়ার বাস্তব চ্যালেঞ্জ।”
উদাহরণ হিসেবে, আটারো বছর বয়সী জেইন বলেছেন, তার বাবা এনএইচএস-এর ডাক্তার এবং যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হওয়ার আশা নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু নিয়ম পরিবর্তনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য তিনি স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স পাননি, যা তার এবং তার পরিবারের ভবিষ্যতের পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করেছে।
লেবার এমপি টনি ভগান বলেছেন,
“নিয়ম শুরু হওয়ার পর পরিবর্তন করা অসাংবিধানিক এবং ন্যায্যতার ধারণাকে ক্ষুণ্ণ করে।”
রাচেল মাসকেল আরও বলেছেন, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের দক্ষতা সংকট বাড়াবে এবং এটি বর্জনযোগ্য নীতি।
অন্যদিকে শাবানা মাহমুদ সংসদে বলেছেন,
“যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাস একটি সুবিধা—অধিকার নয়। পাঁচ বছর যথেষ্ট কম সময়, তাই সময় বাড়ানো ঠিক।”
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

