অভিবাসন নীতিতে আপত্তি লেবার এমপিদের, সেটেলমেন্টে ১০ বছরের অপেক্ষার বিরোধিতা
যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার বা সেটেলমেন্ট পেতে অভিবাসীদের অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন লেবার পার্টির একদল এমপি। তাদের দাবি, এই নতুন নিয়ম ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা হলে তা হবে অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ৩৫ জন লেবার এমপি, অন্যান্য দলের ১৭ জন সংসদ সদস্য, ২১ জন লর্ডস সদস্য এবং ৩৩টি নাগরিক সমাজ সংগঠন স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, কাজ করছেন এবং সমাজে অবদান রেখেছেন—তাদের জন্য নিয়ম পরিবর্তন করা ন্যায্যতার পরিপন্থী।
সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য সেটেলমেন্টের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা ১০ বছরে উন্নীত করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে, যেমন উচ্চ আয়ের অভিবাসীদের জন্য অপেক্ষার সময় কম হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা ভিসায় আসা কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সময় ১৫ বছর এবং যারা এক বছরের বেশি সময় ভাতার ওপর নির্ভর করেছেন, তাদের জন্য ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন নিয়ম ইতিমধ্যে সেটেলমেন্ট পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলেও, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এবং শিগগিরই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকা অভিবাসীরাও এর আওতায় পড়বেন। এ কারণেই পরিকল্পনাটিকে ‘পশ্চাৎমুখী’ বলে সমালোচনা করছেন বিরোধীরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যে অভিবাসনের হার অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং স্থানীয় কমিউনিটির ওপর চাপ কমাতে সরকারকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার অর্জনের জন্য যথাযথ অবদান রাখতে হবে।
তবে লেবার দলের ভেতর থেকেই এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা এসেছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা এটিকে “অ-ব্রিটিশ” এবং “খেলার নিয়ম মাঝপথে বদলে দেওয়ার শামিল” বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, যারা নিয়ম মেনে কাজ করেছেন ও কর দিয়েছেন, তাদের জীবনের পরিকল্পনা হঠাৎ করে বদলে দেওয়া উচিত নয়।
চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, সামাজিক সেবা খাতে ইতিমধ্যে হাজার হাজার শূন্যপদ রয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই খাত আরও সংকটে পড়তে পারে, কারণ এখানকার বড় অংশের কর্মীই অভিবাসী। এতে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের সেবায় মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বাক্ষরকারীরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে নতুন অভিবাসন নীতি প্রযোজ্য না করার বিষয়টি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ প্রভাব মূল্যায়ন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ইস্যুতে লেবার পার্টির ভেতরে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে প্রায় ৪০ জন লেবার এমপি সরকারের প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেন, যা সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

