14.6 C
London
October 28, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

অরুণাচলের ৫০ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনাঃ দাবি কংগ্রেস নেতার

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা সেনাবাহিনী দেশটির ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বসিরাম সিরাম। তবে তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। সীমান্তে চীনের কোনো অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না বলে জানিয়েছেন।

বসিরাম সিরাম অভিযোগ করেন, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার বিভিন্ন এলাকায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সিরাম জানান, গত ২৬ থেকে ২৯ আগস্ট তার নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল সীমান্তবর্তী এলাকা পরিদর্শন করে। ইটানগর থেকে নাচো হয়ে প্রতিনিধিদলটি লাইমেকিং ও তাকসিং এলাকায় যায়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন তারা।

কংগ্রেস নেতার দাবি, চীনা সেনারা ভারতের ভূখণ্ডের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরে অগ্রসর হয়ে পাহাড়ের উঁচু এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, চীনা সেনাদের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের চূড়ায় দেখা যাচ্ছে, আর ভারতীয় পক্ষ রয়েছে নিচের দিকে।

সিরামের অভিযোগ, চীনা সেনাদের তৎপরতার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যগত জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। তার দাবি, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াক চরানো, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও শিকারের জন্য যেসব এলাকায় যাতায়াত করতেন, সেসব স্থানে চলাচলে বিধিনিষেধের মুখে পড়ছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সীমান্তের কয়েকটি স্থানে ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ঘটনায় সেনাদের মধ্যে লাঠি নিয়ে হাতাহাতিও হয়েছিল। তবে এসব ঘটনারও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। গত জুনে স্থানীয় সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তাকসিং এলাকার কাছে চীনা সেনাদের উপস্থিতি বাড়ার অভিযোগ করে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এর আগে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশ ও শিবির স্থাপনের অভিযোগকে ভুল এবং ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

গত আগস্টেও মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু একই ধরনের অনুপ্রবেশের খবর নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি যাচাই করার কথা জানিয়েছিলেন।

সিরাম প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশ বা আগ্রাসী তৎপরতা না ঘটলে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার কেন এমন অভিযোগ করছেন। তার মতে, এসব অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও দাবি করেন, আসাফিলাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং অনলাইন মানচিত্র থেকেও কিছু এলাকার নাম বা অবস্থান আর দেখা যাচ্ছে না। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সীমান্তবর্তী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নেরও দাবি জানিয়েছেন এই কংগ্রেস নেতা। তার মতে, সীমান্ত পর্যন্ত সব মৌসুমে চলাচলযোগ্য সড়ক, সার্বক্ষণিক মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘অরুণাচল রেজিমেন্ট’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান টাইমস

এমকে

আরো পড়ুন

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ব্যাপক ওয়াকআউটঃ ফাঁকা হয়ে যায় অধিবেশন কক্ষ

ইরান যুদ্ধবিরতি সম্ভব যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ঃ জে.ডি. ভ্যান্স

হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য