9.8 C
London
January 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক আইন নয়, নিজের নৈতিকতাই শেষ কথা—নিউইয়র্ক টাইমসে ট্রাম্প

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আন্তর্জাতিক আইন তার জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং তার ক্ষমতার একমাত্র সীমা হলো “নিজের নৈতিকতা ও নিজের চিন্তা”।

 

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার ক্ষমতা থামাতে পারে এমন একটাই জিনিস—আমার নিজের নৈতিকতা।” তিনি দাবি করেন, মানুষের ক্ষতি করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। যদিও এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, তবে সঙ্গে সঙ্গে যোগ করেন—আন্তর্জাতিক আইন কী, তার সংজ্ঞার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প মালিকানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, লিজ বা চুক্তির চেয়ে সরাসরি মালিকানাই রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে বেশি কার্যকর। শুধু কাগজে সই করে কোনো অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। চীন তাইওয়ান দখল বা রাশিয়ার ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির কোনো তুলনা তিনি মানতে নারাজ।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প আবারও বিতর্কিত দাবি করেন যে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাং সদস্য পাঠিয়েছেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “বাস্তব হুমকি” তৈরি করেছিল, যা চীন বা রাশিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকা নিয়েও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শি জিনপিং তার প্রেসিডেন্সির সময় তাইওয়ান দখল করবেন না বলে তিনি বিশ্বাস করেন, যদিও ভবিষ্যতে অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে থাকা শেষ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়েও ট্রাম্প উদাসীন মনোভাব প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন ও আরও ভালো চুক্তি করা হবে, যেখানে চীনসহ অন্যান্য দেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনাও বাড়ছে। মিনিয়াপোলিসে আইসিই-এর গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্পের বক্তব্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

গাজা পরিস্থিতিতে কানাডার কণ্ঠস্বর বদলঃ আন্তর্জাতিক চাপ ও মানবিক বিবেকের প্রতিফলন

জার্মানির নাগরিকত্ব পেতে ইসরায়েলকে সমর্থনের শর্ত নিয়ে বিতর্ক

৩ নৌকা থেকে ১৩০০ অভিবাসী উদ্ধার