বিদেশি শিক্ষার্থীদের বুঝতে সুবিধা হবে—এমন যুক্তিতে নিজেদের কয়েক শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী কিছু শব্দের পরিবর্তে প্রচলিত ইংরেজি পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন ভাষা ব্যবহারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী কিছু স্কটিশ শব্দ আন্তর্জাতিক পাঠকদের কাছে অপরিচিত হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের ১৪ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষ বোঝাতে প্রচলিত স্কটিশ পরিভাষার পরিবর্তে সাধারণ ইংরেজি শব্দ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘বেজান্ত’ (Bejant), দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘সেমি’ (Semi) এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘টারশিয়ান’ (Tertian) বলা হয়। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হয় ‘ম্যাজিস্ট্র্যান্ড’ (Magistrand) শব্দটি। তবে নতুন নির্দেশনায় এসব শব্দের পরিবর্তে প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষ কিংবা শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী—এ ধরনের সহজবোধ্য পরিভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক বা আনুষ্ঠানিক প্রসঙ্গে সরাসরি প্রয়োজন না হলে ঐতিহ্যবাহী শব্দগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়। আর কোনো লেখায় এসব শব্দ ব্যবহার করতে হলে প্রথমবার উল্লেখের সময় সহজ ইংরেজিতে সেগুলোর অর্থ ব্যাখ্যা করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্দেশিকায় শুধু শিক্ষার্থীদের পরিচিতি সংক্রান্ত শব্দ নয়, সময় লেখার পদ্ধতি নিয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পাঠকদের জন্য তৈরি করা ওয়েবপেজে ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪৫ শতাংশ বিদেশ থেকে এসেছিলেন। তারা ১২০টিরও বেশি দেশের নাগরিক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি সর্বনাম ব্যবহারের বিষয়েও একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে রূপান্তরকামী ও নন-বাইনারি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সর্বনাম ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজেদের অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্দেশনার সমালোচনা করেছেন ফ্রি স্পিচ ইউনিয়নের পরিচালক লর্ড টবি ইয়ং। জিবি নিউজকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সেন্ট অ্যান্ড্রুজে পড়তে আসেন এর ব্যতিক্রমী ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েই।
তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়টি যদি নিজস্ব ঐতিহ্যগুলো বাদ দিতে থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ আকর্ষণ হারিয়ে যেতে পারে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহ্যবাহী পরিচয় ধরে রাখার পক্ষে মত দেন।
এর আগে গত সপ্তাহে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কিছু প্রচলিত ইংরেজি বাক্যাংশের পরিবর্তে সহজ ভাষা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্দেশিকায় ‘লার্ন দ্য রোপস’ এবং ‘ফাইন্ড ইয়োর ফিট’-এর মতো বাক্যাংশের পরিবর্তে সহজবোধ্য বিকল্প ব্যবহারের কথা বলা হয়। পাশাপাশি ‘ব্লাইন্ড স্পটস’-এর পরিবর্তে ‘জ্ঞানের ঘাটতি’ অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার এবং ‘স্পোকসম্যান’, ‘চেয়ারওম্যান’ ও ‘ম্যানকাইন্ড’-এর পরিবর্তে যথাক্রমে ‘স্পোকসপারসন’, ‘চেয়ার’ ও ‘হিউম্যানকাইন্ড’ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা নিয়ে জিবি নিউজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছে মন্তব্য চেয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

