ক্রিস কাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মেট্রোপলিটন পুলিশের সশস্ত্র কর্মকর্তা এনএক্স–ওয়ান–টু–ওয়ানের বিরুদ্ধে আর কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। প্রায় চার বছর ধরে চলা আইনি ও বিভাগীয় প্রক্রিয়ার অবসান ঘটার পর যুক্তরাজ্যে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সাবেক লন্ডন পুলিশ কর্মকর্তা ও ‘প্রটেক্ট দ্য প্রটেক্টরস’-এর পরিচালক নরম্যান ব্রেনান এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে দাবি করেছেন, এ ধরনের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া পুলিশের মধ্যে ভয় তৈরি করছে। ফলে ক্রমেই কমে যাচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র বহনে আগ্রহী কর্মকর্তার সংখ্যা।
তার মতে, ব্রিটেনে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে জোর করে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের দায়িত্ব দেওয়া হয় না। কঠোর বাছাই ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে এই দায়িত্ব নিতে হয়। অতিরিক্ত বেতনও দেওয়া হয় না। অথচ জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাদের।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী বা সহিংস অপরাধীদের মোকাবিলায় সফল হলে সশস্ত্র পুলিশ প্রশংসা পায়, কিন্তু কোনো অভিযান বিতর্কিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বছরের পর বছর তদন্ত, বিচার এবং জনসমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ক্রিস কাবাকে গুলি করার ঘটনায় এনএক্স–ওয়ান–টু–ওয়ানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে আদালতে তিনি খালাস পান। সর্বশেষ বিভাগীয় তদন্তেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় পুলিশ আগের রাতের একটি আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একটি গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করছিল। কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, গাড়িটি তাদের বা সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক প্রাণঘাতী হুমকি তৈরি করেছে। সেই পরিস্থিতিতে মাত্র একটি গুলি ছোড়া হয় এবং গাড়ি থেমে যাওয়ার পর আর গুলি চালানো হয়নি।
নরম্যান ব্রেনানের ভাষ্য, দুই টনের একটি গাড়িও আগ্নেয়াস্ত্রের মতো প্রাণঘাতী হতে পারে। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তারা ভিডিও দেখে বা আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পান না; কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জীবন বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, এনএক্স–ওয়ান–টু–ওয়ানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগই আনা উচিত হয়নি। তার মতে, দীর্ঘ চার বছর ওই কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে চরম মানসিক চাপ, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে।
ব্রেনান সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনার পর মেট্রোপলিটন পুলিশে সশস্ত্র দায়িত্বে স্বেচ্ছাসেবক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলে বছরের পর বছর তদন্ত ও মামলার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে তারা আগ্নেয়াস্ত্র বহনের দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ গুলি চালানোর প্রতিটি ঘটনাই অবশ্যই স্বাধীনভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং এমন পরিবেশ তৈরি করা—যেখানে কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পান—এ দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
নিবন্ধের উপসংহারে ব্রেনান বলেন, যদি সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তারা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন যে আইনসম্মতভাবে দায়িত্ব পালন করলে বিচারব্যবস্থা তাদের ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন করবে, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু পুলিশ নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাই।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

