অতীতে কারাবাস, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জাতীয় জীবনে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত নেতা তারেক রহমান।
এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা বিভাজনের রাজনীতি থেকে বের হতে চাই। আগের সরকার অনেককে অত্যাচার করেছে। অনেক সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছেন, আমাদের নেতাকর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমি নিজেও জেল খেটেছি, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছি। আমার পিঠের হাড় এখনো বাঁকা ভাবে লেগে আছে। এরপরও দেশের স্বার্থে বিভাজন না করাই ভালো।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমান জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীলতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের বার্তা দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা। তিনি মনে করেন, অতীতের নির্যাতন ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার চর্চাই দেশের জন্য কল্যাণকর। এ কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়া এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সহনশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশ পুনর্গঠনের এই সময়ে দলমত নির্বিশেষে সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে জাতীয় উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের কল্যাণে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
একই সঙ্গে বিজয়ী ও পরাজিত—সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তার মতে, একটি সহনশীল, গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা তুলে ধরেছেন।
এম.কে

