17.3 C
London
September 11, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল আলজেরিয়া

আবুধাবির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে দেশ ছাড়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমিরাতের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে আমিরাতকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল। তবে এসব সতর্কতার পরও কথিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় তা দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর গ্রহণযোগ্য বা সহনীয় পর্যায়ে নেই বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট কোনো একটি ঘটনার কথা উল্লেখ না করে বলেছে, আমিরাতের ‘উসকানিমূলক বা বৈরী কর্মকাণ্ড’ ক্রমেই এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার আর কোনো জবাব না দিয়ে থাকা সম্ভব নয়। এরপর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার সব ধরনের পথ শেষ হয়ে যাওয়ায় সরকার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের পর আলজেরিয়ায় নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য বাড়ছিল। আলজেরিয়ার গণমাধ্যমে এর আগে আমিরাতের বিরুদ্ধে উত্তর আফ্রিকা ও আশপাশের অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা এবং আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে উষ্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ উল্লেখ করলেও একটি দেশের সঙ্গে টানাপোড়েনের কথা বলেছিলেন, যা আমিরাতের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।
পশ্চিম সাহারা ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। আলজেরিয়া পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে। অন্যদিকে আমিরাত পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এই বিরোধ উত্তর আফ্রিকার দুই দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব বাড়ানোর অন্যতম বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নেও আলজেরিয়া ও আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম চুক্তির আওতায় আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আলজেরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরোধিতা করে আসছে। একই সময়ে মরক্কোও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, যা আলজেরিয়ার আঞ্চলিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সাহেল অঞ্চলের ভূরাজনীতিতেও দুই দেশের স্বার্থ ও নীতিগত অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সামরিক সরকারগুলোর সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক জোরদার হয়েছে, অন্যদিকে এসব দেশের কয়েকটির সঙ্গে আলজেরিয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২০১৩ সালে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বিমান পরিষেবা চুক্তি বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি সামনে আসে। রয়টার্স জানিয়েছে, ওই পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আলজেরিয়ার ঘোষণার পর আমিরাতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আমিরাত এ সিদ্ধান্তকে সাময়িক হিসেবে দেখার আশা প্রকাশ করে এবং আলজেরিয়ার জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্বের কথা জানায়।
সূত্রঃ রয়টার্স\ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
এম.কে

আরো পড়ুন

দুবাই ভ্রমণ বিধিনিষেধ কঠোর করেছে: ভ্রমণের আগে যা জানা প্রয়োজন

র‍্যাম্প থেকে রাজপথঃ পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী কে এই অগ্নিমিত্রা পাল

নিউজ ডেস্ক

গাজায় ত্রাণকর্মী হত্যার তদন্ত বন্ধঃ ইসরায়েলের সিদ্ধান্তে যুক্তরাজ্য-কানাডার তীব্র নিন্দা