ইংল্যান্ডের প্রথম “সাইকেল স্ট্রিট” হিসেবে দাবি করা একটি বিশেষ সড়ক জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। কেমব্রিজের পশ্চিমাঞ্চলের অ্যাডামস রোডে নির্মিত এই প্রকল্পে মোটরযানের তুলনায় সাইকেল আরোহী ও পথচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২৪ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি গ্রেটার কেমব্রিজ পার্টনারশিপের (জিসিপি) বৃহত্তর “গ্রিনওয়ে” পরিকল্পনার অংশ। এর উদ্দেশ্য কেমব্রিজ শহর ও কমবার্টন গ্রামের মধ্যে হাঁটা ও সাইকেল যাত্রাকে আরও নিরাপদ ও সহজ করা।
জিসিপির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার সাইকেল আরোহী অ্যাডামস রোড ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে সরু ফুটপাত, ব্যস্ত মোড় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এলাকাবাসী সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। এসব সমস্যা সমাধান করতেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুরো সড়কটি লাল রঙে রাঙানো হয়েছে এবং ফুটপাত প্রশস্ত করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সড়কের চিহ্ন ও নির্দেশনামূলক মার্কিংয়ের কাজও শেষ হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গাড়িচালকরা সড়কটি ব্যবহার করতে পারলেও সাইকেল আরোহীদের অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য থাকবেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়কের অনেক অন-রোড পার্কিংও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে গাড়ির চালকদের দৃষ্টিসীমা পরিষ্কার থাকবে এবং পার্ক করা গাড়ির দরজা হঠাৎ খুলে সাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনায় পড়ার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী জুলিয়েট জ্যাকসন বলেন, এই প্রকল্প নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তার ভাষায়, “আগে এটি সাধারণ সড়ক ছিল, তাই অনেক গাড়িচালক সাইকেল আরোহীদের যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন না। অনেক সাইকেল আরোহী ছাত্রছাত্রী, যারা খুব দক্ষ নয় এবং রাতে লাইটও ব্যবহার করে না। এখন গাড়িচালকদের সড়কটি ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।”
তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, অনেক মানুষ ক্ষুব্ধ হতে পারেন কারণ অন্য অনেক এলাকার সড়ক খারাপ অবস্থায় থাকলেও এখানে নতুন ও উন্নত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শহরের কেন্দ্রস্থলে কর্মরত উইল ইয়াউ নামের এক বাসিন্দা বলেন, কেমব্রিজ এমনিতেই সাইকেলবান্ধব শহর হিসেবে পরিচিত এবং বেশিরভাগ সড়কেই আলাদা সাইকেল লেন রয়েছে। তাই তার মতে, এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
গ্রেটার কেমব্রিজ পার্টনারশিপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জনাথন ক্যাম্প বলেন, অ্যাডামস রোড চালুর মাধ্যমে কমবার্টন গ্রিনওয়ে প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, বাকি কিছু কাজ শেষ করতে প্রয়োজন হলে সাময়িকভাবে সড়কের কিছু অংশ আবার বন্ধ রাখা হতে পারে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজ চলাকালে ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

