ব্রিটেনকে আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয় বলে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে সতর্ক করেছেন লেবার এমপি স্টেলা ক্রেসি।
লেবার মুভমেন্ট ফর ইউরোপের চেয়ার স্টেলা ক্রেসি বলেছেন, ইইউতে ফেরার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অ্যান্ডি বার্নহামের হাতে এখন মাত্র ছয় মাস রয়েছে। লিভারপুলে অনুষ্ঠিত লেবার পার্টির সম্মেলনে ইউরোপপন্থী একটি সমাবেশের আগে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যান্ডি বার্নহাম পরবর্তী লেবার নির্বাচনী ইশতেহারে ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়টি এখনো নাকচ করেননি। তবে স্টেলা ক্রেসির বক্তব্য, আগামী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করে এরপর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার সময় নেই।
ইইউতে ফেরার পক্ষে চাপ বাড়ার মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার বলেছেন, যুক্তরাজ্যকে এক দশকের মধ্যে ইইউতে ফেরানোর জন্য অ্যান্ডি বার্নহামের একটি পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
স্টেলা ক্রেসি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য একা থেকে বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে কি না, সেটি নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার মতে, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউকে ঘিরে গড়ে ওঠা বড় শক্তির ব্লকের বিশ্বে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মৌলিকভাবে নতুন করে ভাবা দরকার।
তিনি আরও বলেন, শক্তি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত ও পুনর্গঠিত হচ্ছে এবং এ কারণে যুক্তরাজ্যের ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই আলোচনা প্রয়োজন।
ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের অর্থনৈতিক দিক নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর)-এর ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে পণ্যের পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশনের পারস্পরিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত চুক্তি থাকলে ব্রিটিশ পণ্য রপ্তানি বছরে আনুমানিক ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি হতে পারত।
আইপিপিআর বলেছে, যুক্তরাজ্যে তৈরি কিছু পণ্য ইইউতে রপ্তানির আগে অতিরিক্ত পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশনের মুখোমুখি হয়। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশেষ করে মোটরগাড়ি, ইলেকট্রনিকস ও ওষুধশিল্পে এর প্রভাব বেশি হতে পারে।
তবে এসব অর্থনৈতিক হিসাব আইপিপিআরের বিশ্লেষণভিত্তিক অনুমান; এগুলোকে সরাসরি সরকারি হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
স্টেলা ক্রেসি ইইউর সম্ভাব্য ‘মেড ইন ইউরোপ’ নীতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, ইউরোপে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো ব্যবস্থা চালু হলে এবং যুক্তরাজ্য এর বাইরে থাকলে ব্রিটিশ শিল্পের সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে ব্রিটেনে “হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ চাকরি” ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে এটি স্টেলা ক্রেসির রাজনৈতিক বক্তব্য ও আশঙ্কা; প্রতিবেদনে এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ দেওয়া হয়নি যে এই পরিমাণ চাকরি নিশ্চিতভাবে হারাবে।
স্টেলা ক্রেসি বলেন, আগামী ছয় মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে তিনি আরও বলেছেন, ইইউতে পুনরায় যোগ দেওয়ার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারকে জনগণের গণতান্ত্রিক সম্মতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এবং এর জন্য আলাদা গণভোট প্রয়োজন হবে কি না, সেটি নিয়েও তিনি উন্মুক্ত।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট\ ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর)
এম.কে

