ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কোসেনজায় চার অভিবাসী শ্রমিককে একটি গাড়ির ভেতরে আটকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (৬ জুন) গ্যাংমাস্টারি এবং শ্রমিক শোষণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মানবাধিকারকর্মী, ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।
ইতালির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি এফএলএআই সিজিআইল, যা কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটি অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ শ্রম শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত চার শ্রমিকের মধ্যে তিনজন আফগানিস্তানের নাগরিক এবং একজন পাকিস্তানি নাগরিক ছিলেন। এছাড়া আরেকজন আফগান শ্রমিক প্রাণে বেঁচে যান। তিনি আগুন লাগার পর কোনোমতে গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাটি একটি নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ইতালীয় পুলিশ দুই পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
এই নৃশংস ঘটনা ইতালির কৃষি খাতে বহুল আলোচিত “কাপোরালাতো” বা অবৈধ শ্রম নিয়োগ ব্যবস্থাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক অভিবাসী শ্রমিককে কম মজুরিতে, অমানবিক পরিবেশে এবং আইনগত সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অভিবাসী শ্রমিকরা ইতালির কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তারা প্রায়ই শোষণ, ভয়ভীতি এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশের শিকার হন। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করলেই হবে না; এর পেছনে থাকা পুরো শোষণমূলক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
এফএলএআই সিজিআইলের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ শ্রম দালাল ও গ্যাংমাস্টারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।
ইতালির স্বরাষ্ট্র ও বিচার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই ঘটনা শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি ইউরোপজুড়ে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং শ্রম শোষণের বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, কৃষি খাতে সস্তা শ্রমের চাহিদা এবং দুর্বল তদারকির সুযোগে বহু অভিবাসী শ্রমিক এখনও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
কোসেনজার এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং শ্রমিক সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে ইতালিজুড়ে।
সূত্রঃ ইনফো মাইগ্র্যান্টস
এম.কে

