পূর্ব লন্ডনের প্লেইস্টোতে ১৫ তলার একটি ফ্ল্যাটের রান্নাঘরের জানালা থেকে পড়ে পাঁচ বছর বয়সী আলিম আহমেদের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ মে ভোরে জ্যাকবস হাউসের ওই ফ্ল্যাট থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আলিমের বাবা মাকাইল আহমেদ দ্রুত ফ্ল্যাট থেকে নিচে ছুটে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। শিশুটির মা সাহরা ওসমান দাবি করেন, এ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব ছিল। তার অভিযোগ, পরিবারের বসবাসের ফ্ল্যাটের জানালার নিরাপত্তা নিয়ে তিনি নিউহ্যাম কাউন্সিলকে একাধিকবার জানিয়েছিলেন।
তদন্তে জানালার অবস্থা নিয়ে অবশ্য ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। নিউহ্যাম কাউন্সিলের পাঠানো প্রকৌশলী চার্লি ম্যান ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে জানালা পরীক্ষা করে সেগুলো কার্যকর অবস্থায় পেয়েছিলেন বলে আদালতকে জানান।
তবে আলিমের মায়ের অভিযোগের পর প্রকৌশলী জানালার নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। নয়টি নতুন রেস্ট্রিক্টর অর্ডার করা হয় এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সেগুলো পরিবর্তনের কাজ করা হয়।
পরে পুলিশ জানালাটি পরীক্ষা করার যে ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করে, সেটি দেখে প্রকৌশলী চার্লি ম্যানের বাবা জেমস ম্যান জানান, রেস্ট্রিক্টর প্রতিবার সঠিকভাবে সক্রিয় হচ্ছিল না। তার মতে, জানালাটিতে সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল এবং কিছু একটা ঠিকভাবে কাজ করছিল না।
আলিমের মা জানান, তার ছেলে অটিস্টিক ছিল এবং নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে তার ঝুঁকি-বোধ সীমিত ছিল। তিনি আরও বলেন, পরিবারকে যখন ১৫ তলার ওই ফ্ল্যাটে রাখা হয়, তখনই তিনি নিরাপত্তা নিয়ে ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।
ইস্ট লন্ডন করোনার্স কোর্টে তদন্তের সময় বলা হয়, ঘটনার দিন ভোরে আলিম ঘুম থেকে উঠে রান্নাঘরে যায়। এরপর একটি চেয়ারে উঠে জানালার সিলের ওপর ওঠে এবং জানালাটি খুলে বাইরে পড়ে যায়।
সহকারী করোনার ইয়ান ওয়েডের মতে, আলিম হয়তো সরল বিশ্বাসে মনে করেছিল যে সে উড়তে পারবে, অথবা জানালা দিয়ে পড়ে গেলেও তার কোনো ক্ষতি হবে না। তার বর্ণনামূলক সিদ্ধান্তে শিশুটির অটিজমের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
ভবনের বাইরের সিসিটিভির অডিওতে একটি শিশুর কণ্ঠে ‘তিন, দুই, এক’ বলার শব্দ শোনা যায়। কয়েক সেকেন্ড পর একটি জোরালো শব্দও রেকর্ড হয়।
তদন্তকারী ডিআই জেমি হাম বলেন, আলিমকে কেউ জোর করে জানালা দিয়ে বের করে দিয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ বা সন্দেহ পাওয়া যায়নি। তদন্তে অপরাধেরও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
করোনার ইয়ান ওয়েড বলেন, জানালাটি এক পর্যায়ে নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল অবস্থায় পরিণত হয়েছিল। তবে তার মতে, ওই পাঁচ বছরের শিশুকে ১৫ তলার ফ্ল্যাটে রাখা অনুপযুক্ত ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো জোরালো কারণ পাওয়া যায়নি।
নিউহ্যাম কাউন্সিলের আবাসনবিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য জন গ্রে ঘটনাটিকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে আলিমের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য করোনারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে

