20.5 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

এবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিক্ষোভ, পাশে দাঁড়িয়েছেন মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে বৃহত্তম নার্স বিক্ষোভ-ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে মাউন্ট সিনাই, মন্টিফিওর এবং নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান—এই তিনটি প্রধান বেসরকারি হাসপাতালের নার্সরা কর্মবিরতি শুরু করেন।

 

দীর্ঘ সময় ধরে চলা চুক্তিভিত্তিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নিউ ইয়র্ক স্টেট নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন (এনওয়াইএসএনএ) এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটরত নার্সদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে নেমেছেন সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। মেয়রের এই প্রকাশ্য সমর্থন নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্যখাতের প্রভাবশালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কয়েক মাসের দরকষাকষি সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপদ স্টাফিং বা পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগের বিষয়ে কোনো অর্থবহ অগ্রগতি করতে পারেনি। উল্টো ধনকুবের হাসপাতালগুলো নার্সদের বর্তমান স্বাস্থ্য বিমা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

অথচ নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতাল ৫৪৭ মিলিয়ন ডলার এবং মন্টিফিওর প্রায় ২৮৯ মিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে। নার্সদের দাবি, হাসপাতালের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন এবং কর্মস্থলে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি মাউন্ট সিনাই ও নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতালে গোলাগুলির ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ধর্মঘট এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন নিউইয়র্ক সিটি ভয়াবহ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা মৌসুমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের প্রায় ৯ শতাংশই ছিল ফ্লু আক্রান্ত। কানি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর অধ্যাপক ব্রুস ওয়াই লি মনে করেন, এই সংকটের সময় নার্সদের অনুপস্থিতি স্বাস্থ্যসেবাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে নার্সদের এই অবস্থানকে ‘নৈতিক লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের নার্সরা এই শহরকে সবচেয়ে কঠিন সময়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তাই তাদের মর্যাদা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।’ সোমবার তিনি সশরীরে পিকেট লাইনে যোগ দিয়ে হাসপাতাল মালিকদের অতি মুনাফার মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, তারা নার্সদের জন্য পর্যাপ্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে যা তাদের শহরের সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাতারে রাখবে। নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, তারা একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো প্রস্তুত। তবে নার্সিং ইউনিয়ন বলছে, কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত ল্যাম্প-সাম বা এককালীন অর্থ সহায়তা নার্সদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য বিমা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

এই ধর্মঘট এখন কেবল স্বাস্থ্য খাতের আন্দোলন নয়, বরং গভর্নর ক্যাথি হোকুলের আসন্ন পুনর্নির্বাচন ও মেয়রের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে কোনো পক্ষই এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

যাত্রা শুরু করল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমোদতরী

বুর্জ খলিফাকে টপকে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হতে যাচ্ছে সৌদির জেদ্দা টাওয়ার

নিউইয়র্ক সফরে রাজা চার্লস—কোহিনূর ইস্যুতে বিতর্কঃ মামদানির মন্তব্যে নতুন আলোচনা