TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে ৯২ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধরনের বাণিজ্য সুবিধা বহাল থাকছে। ব্রিটিশ সরকারের উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ব্যবস্থা বা ডিসিটিএসের আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ ডিসিটিএসের ‘উন্নত অগ্রাধিকার’ স্তরের আওতায় এই সুবিধা পাবে। ফলে এলডিসি মর্যাদা হারানোর পরও দেশটির অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অতিরিক্ত তিন বছর বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধাগুলো বহাল রাখার সুযোগ থাকছে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা হঠাৎ করে বাড়তি শুল্কের মুখে পড়বেন না এবং নতুন বাণিজ্য বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য সময় পাবেন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক। যুক্তরাজ্যের বাজারে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকসহ প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে। ফলে দেশের পোশাকশিল্পের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পণ্যের উৎপত্তি সংক্রান্ত নিয়মেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য নমনীয়তা রাখা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পোশাক তৈরি করে যুক্তরাজ্যে রপ্তানির ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশেষ করে ‘ডাবল ট্রান্সফরমেশন’-এর কঠোর শর্তে নমনীয়তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের পোশাক উৎপাদন খাত বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল ও উপকরণ সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ডিসিটিএস ১৯ জুন ২০২৩ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির পূর্ববর্তী সাধারণীকৃত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হয়।

ডিসিটিএসের আওতায় বর্তমানে ৬৫টি উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী নিম্ন আয়ের ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো এই ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের সুবিধা পেতে পারে।

এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য বাড়ানো এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা। একই সঙ্গে কম আমদানি শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্যও বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলাদা কোনো জটিল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন করে দরকষাকষি করার প্রয়োজন নেই। ডিসিটিএসের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই বাংলাদেশ এই অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে।

২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে ডিসিটিএসের পণ্যের উৎপত্তি সংক্রান্ত নিয়মে নতুন পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্যব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সহজ করা হয়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা। সেই বিবেচনায় যুক্তরাজ্যের বাজারে ৯২ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেশের রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এই সুবিধা বহাল থাকায় যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তিন বছরের রূপান্তরকাল রপ্তানিকারকদের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য কৌশল নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত সময় দেবে।

তবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশকে পণ্যের মান, উৎপাদন ব্যয়, শ্রম উৎপাদনশীলতা, পরিবেশগত মান এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতার দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং অতিরিক্ত তিন বছরের বর্তমান সুবিধা বহাল থাকা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য এই সুবিধা যুক্তরাজ্যের বাজারে ব্যবসা ধরে রাখা ও ভবিষ্যতে রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্রঃ ইউকে ইন বিডি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে মোবাইল এপ্স জালিয়াতি করে হাজার হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নিচ্ছে অপরাধী চক্র

সিলেটের যে পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করলো প্রশাসন

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেন ভাঙা আবাসন ব্যবস্থা সংস্কারেরঃ ‘এটাই জাতীয় পুনর্জাগরণ’

নিউজ ডেস্ক