18.5 C
London
June 7, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

এল নিনোর প্রভাবে বাড়তে পারে গরমঃ তবে বাংলাদেশে চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম

প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া, তাপপ্রবাহ ও জলবায়ুজনিত অস্থিরতার সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বাংলাদেশে গরম ও তাপপ্রবাহ কিছুটা বাড়লেও তা ভয়াবহ বা বিপর্যয়কর রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, খরা এবং বৃষ্টিপাতের ধরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ জলবায়ুগত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বর্ষা মৌসুমেও গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বেশি অনুভূত হতে পারে। কিন্তু দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গোপসাগরের প্রভাব এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে চরম খরা বা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ঝুঁকি অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে এল নিনোর কারণে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টিপাত পুরোপুরি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং সময়ে সময়েই বিচ্ছিন্ন ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকতে পারে। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও গরমের অনুভূতি বা ‘ফিলস লাইক’ তাপমাত্রা অনেক বেশি মনে হতে পারে। এতে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে, বিশেষ করে নগরাঞ্চলে।

তারা আরও জানান, এল নিনোর প্রভাবে তাপপ্রবাহের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে এবং মাঝে মাঝে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহও দেখা দিতে পারে। তবে নিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে সেই তাপপ্রবাহ দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত এলাকায় স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জলবায়ু গবেষকদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এল নিনো সরাসরি বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি না করলেও কৃষি, জনস্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ চাহিদা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সম্ভাব্য চরম আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জন্য আপাতত আতঙ্কের কারণ না থাকলেও এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা বৃদ্ধি, তাপমাত্রা ঊর্ধ্বগতি এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত গরম অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

সূত্রঃ ক্লাইমেট চেঞ্জ একাডেমি

এম.কে

আরো পড়ুন

পাচার হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ থেকে মোটরসাইকেল রপ্তানি শুরু করেছে হোন্ডা

‘দালাল’ সাংবাদিকদের তালিকা প্রকাশ করল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন