বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে জার্মানি ও ইউরোপজুড়ে ক্রমবর্ধমান কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে শত শত মানবাধিকার ও সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন। তারা যৌথভাবে একটি স্মারকলিপি প্রকাশ করে শরণার্থীদের অধিকার ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং বর্তমান অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে।
শুক্রবার (২০ জুন) প্রকাশিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসনের বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যার ফলে তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘আমরা বনাম ওরা’—এই বিভাজনমূলক মানসিকতা এখন অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণের ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে মানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নগুলো উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
যৌথ এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জার্মানি শাখা, ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, প্যারিটেটিশার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ডায়াকনি জার্মানিসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে প্রায় ২৭৫টি সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে জার্মানির প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ, সমুদ্রপথে উদ্ধারকাজ পরিচালনাকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং একাধিক শরণার্থী কাউন্সিল।
‘আর একটি পথ সম্ভব’ শিরোনামের স্মারকলিপিতে শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এসব সুপারিশ করা হয়েছে।
তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তথাকথিত ‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’ ধারণা বাতিল করা, যা আশ্রয়প্রার্থীদের অন্য দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা এবং শরণার্থীদের জন্য আশ্রয়সংক্রান্ত পরামর্শ, আইনি সহায়তা ও সমাজে একীভূত হওয়ার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে ৭৫ বছর আগে আন্তর্জাতিক আইনে অন্তর্ভুক্ত জেনেভা শরণার্থী কনভেনশনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। ওই কনভেনশন অনুযায়ী, শরণার্থীদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।
সংগঠনগুলো বলছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কনভেনশনের নীতিমালা বাস্তবায়ন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবুও তারা বিশ্বাস করে, মানবাধিকার, সংহতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে এমন একটি কার্যকর শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করবে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করবে।
স্মারকলিপির মাধ্যমে জার্মানি ও ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে সরে এসে মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে শরণার্থী সুরক্ষার একটি টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পদক্ষেপ নেন।
সূত্রঃ ইনফো মাইগ্র্যান্টস
এম.কে

