TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ছোট নৌকার সংকটকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটেনে এজেন্ট পাঠাচ্ছে ইরান—বিস্ফোরক দাবি ব্রিটেনের

যুক্তরাজ্যের ছোট নৌকায় অবৈধ অভিবাসন সংকটকে কাজে লাগিয়ে ইরান দেশটিতে গোয়েন্দা এজেন্ট ও অপারেটিভ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করা তেহরান-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ শনাক্ত ও আটক করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফ্রান্সের কালে এলাকায় অবস্থানরত কিছু অভিবাসীকে ব্রিটেনে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে ইরানি শাসকগোষ্ঠী। তবে এর বিনিময়ে তাদের শর্ত ছিল, যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর তারা ইরানের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করবে।

এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ইংলিশ চ্যানেল উপকূলে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নজরদারি টাওয়ার এবং উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পর্যন্ত বিস্তৃত কয়েকটি মানবপাচার রুট ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, সংক্ষেপে আইআরজিসি, নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, আটক হওয়া কয়েকজন সন্দেহভাজনের সঙ্গে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া আইআরজিসির অভিজাত কুদস ফোর্সের লজিস্টিক শাখা ইউনিট সাতশ ছোট নৌকায় ব্রিটেনে পৌঁছানো কিছু এজেন্টকে পরিচালনা করছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই কুদস ফোর্সের বিরুদ্ধে হামাস, হিজবুল্লাহসহ বিভিন্ন প্রক্সি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই বসবাসরত উগ্রপন্থায় প্রভাবিত ব্যক্তিদের ব্যবহার করা এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্ককে সক্রিয় করা।

প্রতিবেদনে এক ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কিছু মানবপাচার রুটের ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, লন্ডনে তাদের সমর্থক রয়েছে এবং প্রয়োজনে রাজধানীকে অনিরাপদ করে তোলার সক্ষমতাও তাদের আছে। এমনকি তিনি বলেন, মানবপাচারের এসব রুট তাদের জন্য ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি কার্যকর।

এদিকে কয়েক দিন আগেই একটি ছোট নৌকায় রেকর্ডসংখ্যক ১৬৫ জনের বেশি অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি অভিবাসী ছোট নৌকায় করে দেশটিতে প্রবেশ করেছে, যা ব্রিটিশ সরকারের জন্য ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিরোধী দলের ছায়া নিরাপত্তামন্ত্রী অ্যালিসিয়া কেয়ার্নস অভিযোগ করেছেন, সরকারকে বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে এবং আইআরজিসি ছোট নৌকার সংকটকে কাজে লাগিয়ে তাদের অপারেটিভদের ব্রিটিশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্ত টাস্কফোর্স গঠন, ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ছোট নৌকায় আগত প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে। যাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুখপাত্র আরও জানান, আইআরজিসির প্রতি সমর্থনকে অবৈধ ঘোষণা করতে আইন সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের হয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

হোটেল খরচ কমাতে আসছে ‘বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন আইন’

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে

যুক্তরাজ্যে হামাসের প্রতি সমর্থন আহ্বানের অভিযোগে এনএইচএস চিকিৎসক গ্রেফতার