17.4 C
London
June 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ভিসা আবেদনে সামান্য ভুলেই ওভারস্টেয়ারের ঝুঁকি

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো আবেদন সফল হওয়ার প্রথম শর্ত হলো সেটি আইনগতভাবে বৈধ বা ‘ভ্যালিড’ হওয়া। আবেদনকারী সব যোগ্যতা পূরণ করলেও যদি আবেদনটি বৈধ না হয়, তাহলে হোম অফিস সেটি বিবেচনাই করবে না। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি ‘ইনভ্যালিড’ বা অবৈধ আবেদন অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অনিচ্ছাকৃতভাবে ওভারস্টেয়ার বানিয়ে দিতে পারে, যার দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও অভিবাসনগত পরিণতি রয়েছে।

ইমিগ্রেশন রুলসের প্যারাগ্রাফ ৩৪ অনুযায়ী, আবেদন বৈধ হওয়ার জন্য নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার, সকল বাধ্যতামূলক তথ্য পূরণ, নির্ধারিত ফি ও ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ (IHS) পরিশোধ, পরিচয়পত্র প্রদান এবং বায়োমেট্রিকস জমা দেওয়ার মতো শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্ত পূরণ না হলে আবেদনটি শুরু থেকেই অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করার কারণে ভুল ফি বা IHS না দেওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম হলেও ক্যাটাগরি-নির্দিষ্ট বৈধতার শর্তে অনেক আবেদনকারী সমস্যায় পড়ছেন। উদাহরণস্বরূপ, UK Ancestry Route-এ যুক্তরাজ্যের ভেতর থেকে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর আগে একই রুটে অনুমতি থাকতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে আবেদনটি সরাসরি অবৈধ বলে গণ্য হতে পারে।

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, বৈধতা ও যোগ্যতার (Eligibility) মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবেদন বৈধ হলেও পরবর্তীতে যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে তা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। কিন্তু আবেদন যদি শুরু থেকেই অবৈধ হয়, তাহলে সেটি আইনের দৃষ্টিতে যেন কখনো করা হয়নি বলেই বিবেচিত হয়।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ‘সেকশন 3C লিভ’। সাধারণত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বৈধভাবে এক্সটেনশনের আবেদন করলে পুরোনো ভিসার অধিকার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে। কিন্তু আবেদন শুরু থেকেই অবৈধ হলে এই সুরক্ষা কার্যকর হয় না। ফলে আবেদনকারী অজান্তেই ওভারস্টেয়ার হয়ে যেতে পারেন।

তবে কিছু ক্ষেত্রে হোম অফিস আবেদনকারীকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দেয়। ভুল ফর্ম ব্যবহার, অসম্পূর্ণ তথ্য বা কিছু প্রশাসনিক ত্রুটির ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে আবেদনকে বৈধ করা যেতে পারে। সময়মতো সংশোধন করা হলে আবেদনটি শুরু থেকেই বৈধ ছিল বলে গণ্য হয়।

অন্যদিকে কিছু ত্রুটি সংশোধনযোগ্য নয়। যেমন কোনো নির্দিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে নাগরিকত্ব বা বয়সের শর্ত পূরণ না করলে পরবর্তীতে কয়েক দিনের মধ্যে সেই শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে হোম অফিস অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার পরিবর্তে সরাসরি আবেদনটি অবৈধ ঘোষণা করতে পারে।

বায়োমেট্রিকস সংক্রান্ত নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিকস না দেওয়া হলেও আবেদনটি সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ হয়ে যায় না। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর হোম অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধতার নোটিশ জারি করলে তবেই আবেদনটির বৈধতা শেষ হয় এবং সেই সময় পর্যন্ত আবেদনকারী Section 3C Leave-এর সুরক্ষা পেতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যদি কোনো আবেদন অবৈধ ঘোষণার নোটিশ পাওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে নতুন বৈধ আবেদন জমা দেওয়া হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ওভারস্টেয়িংকে উপেক্ষা করা হতে পারে। তবে সেই সময়কাল সাধারণত স্থায়ী বসবাসের (ILR) জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক সময়ের অংশ হিসেবে গণনা করা হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হোম অফিস কখনো ভুলবশত বৈধ আবেদনকেও অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। এমন ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল রিভিউ বা আদালতের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আইনজীবীর পাঠানো ‘লেটার বিফোর ক্লেইম’ পাওয়ার পর হোম অফিস নিজেই ভুল স্বীকার করে অবৈধতার নোটিশ প্রত্যাহার করে নেয়।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব বৈধতার শর্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা। কারণ সামান্য প্রশাসনিক ভুলও বৈধ আবেদনকে অবৈধ করে দিতে পারে এবং এর ফলে ভিসা স্ট্যাটাস, ভবিষ্যৎ অভিবাসন আবেদন ও যুক্তরাজ্যে থাকার বৈধতার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে কাউন্টি ডারহামের পর সান্ডারল্যান্ডেও শরণার্থী বাসস্থানের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ

নিউজ ডেস্ক

ইংল্যান্ডে রেকর্ড ভাঙা খরায় ইয়র্কশায়ারে হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা ১,০০০ পাউন্ড

‘গ্যাং সংস্কৃতি’ থেকে রক্ষা পেতে ঘানায় পাঠানো ব্রিটিশ কিশোর আপাতত ফিরতে পারবে নাঃ হাই কোর্টের রায়