TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

কাশ্মীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে ব্রিটিশ নাগরিক নিহত

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের মধ্যে পিটারবরোর এক ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আখতার গত ৯ জুন কোটলি শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে নটিংহামের আরেক ব্রিটিশ নাগরিক ওয়াকাস আরিফ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে মিরপুরের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আখতার বিক্ষোভে অংশ নেননি। তবে তার বাড়ির কাছেই অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল। পরিবারের দাবি, ওই সময় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে একটি ছোড়া গুলি আখতারের বুকের পাশের অংশে লাগে। পরে তিনি মারা যান।

আখতারের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাদ জানান, বিক্ষোভ তার বাড়ির কাছেই চলছিল এবং সেদিন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের মধ্যেই আখতার গুলিবিদ্ধ হন। পরিবারের দাবি, তিনি কোনো বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছিলেন না এবং ঘটনাটি ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির শিকার হওয়ার ফল।

তবে আখতারের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে পুলিশের কাছে অভিযোগ নথিভুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও তা করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করেছিলেন, ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করলে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে আখতারের সন্তানরা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তোলেননি বলে জানিয়েছেন তার চাচাতো ভাই।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছে। সংগঠনটি অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছে। আন্দোলনকে ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গত মাসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিভিন্ন পক্ষ। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি গত ৫ জুন থেকে কাশ্মীরের ওই অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সাধারণ কাশ্মীরিদের আন্দোলন দমন করতে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই কোনো অপরাধে জড়িত নন বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। এমনকি ২৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া তিন ধাপের নির্বাচনকেও তারা “প্রহসন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং অভিযোগ করেছে, “বন্দুকের মুখে” নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর জানিয়েছে, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কিছু এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্য গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী এবং ইসলামাবাদে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করছেন বলে জানানো হয়েছে। গত ৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ নির্দেশনাও হালনাগাদ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সাবেক পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার ১৬ ও ১৭ জুন ইসলামাবাদ সফরের সময় পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে থাকা স্টিফেন ডাউটিও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

তবে এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লন্ডনে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন কোনো জবাব দেয়নি।

কাশ্মীরের পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ভোগান্তির আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে ওয়াকাস আরিফকে ঘিরে। নটিংহামের ৩৮ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ নাগরিককে গত ৫ জুন মিরপুরে বিক্ষোভের পর আটক করা হয়।

তার পরিবারের দাবি, ওয়াকাস কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। তার বোন সুমেরার ভাষ্য, ওয়াকাসের দুই ভাই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর পাকিস্তানি বাহিনী ও রেঞ্জার্স সদস্যরা তাদের বাড়িতে গিয়ে তাদের নিয়ে যায়। পরে ওয়াকাসকেও আটক করা হয়।

পরিবারের দাবি, ওয়াকাসের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে আদালতেও হাজির করা হয়নি। তার স্ত্রী ভারিশা কামপুলভি জানিয়েছেন, তাকে কারাগারে নেওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি।

তবে ২৬ জুন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে তার স্ত্রীকে জানানো হয়, ব্রিটিশ কনস্যুলার কর্মকর্তারা ওয়াকাসকে যে কারাগারে রাখা হয়েছে, সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়াকাস সুস্থ আছেন।

কাশ্মীরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যে দুই ব্রিটিশ নাগরিককে ঘিরে এসব ঘটনা যুক্তরাজ্য-পাকিস্তান সম্পর্কেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একজনের মৃত্যু এবং অন্যজনের দীর্ঘদিন আটক থাকার বিষয়টি ব্রিটিশ সরকারের নজরদারিতে রয়েছে বলে পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ

কোরান পোড়ানোর অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিচার করবে সুইডেন

ধুমপান নিয়ে আবারো কঠিন বার্তা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক