14.3 C
London
June 2, 2026
TV3 BANGLA
ফিচার

ক্যানসারের ‘অদৃশ্যতার চাদর’ খুলে দিতে সক্ষম নতুন স্মার্ট ওষুধ

ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে একটি পরীক্ষামূলক ‘স্মার্ট’ ওষুধ, যা ক্যানসার কোষকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে। গবেষকদের দাবি, এই ওষুধ ব্যবহারে বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ ছয় ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে টিউমারের আকার অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্রেওলফ থেরাপিউটিকস উদ্ভাবিত ওষুধটির নাম জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯। এটি ইমিউনোথেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করা হলে ক্যানসার কোষকে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সামনে দৃশ্যমান করে তোলে, ফলে শরীরের টি-সেলগুলো সহজে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানসার সম্মেলন আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সভায় এ গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার ৮৩ জন রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে জরায়ুমুখ, মূত্রথলি, যকৃত, অন্ত্র, ফুসফুস এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা ছিলেন। সবাই পূর্ববর্তী চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং অধিকাংশের জন্য আর কোনো কার্যকর চিকিৎসা বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না।

রোগীদের জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯-এর সঙ্গে সেমিপ্লিম্যাব নামের একটি ইমিউনোথেরাপি ওষুধ দেওয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ২৬ জন রোগীর টিউমার সঙ্কুচিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে টিউমারের আকার কমেছে অন্তত ৩০ শতাংশ।

গবেষকরা জানান, ক্যানসার কোষ সাধারণত ইআরএপি১ নামের একটি এনজাইমের কার্যক্রম পরিবর্তন করে নিজেদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার চোখ থেকে আড়াল করে রাখে। জিআরডব্লিউডি৫৭৬৯ এই এনজাইমকে বাধা দেয়, ফলে ক্যানসার কোষের তথাকথিত ‘অদৃশ্যতার চাদর’ সরে যায় এবং ইমিউন সিস্টেম সেগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, জরায়ুমুখ ক্যানসারের ১৮ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে অন্তত ছয় মাস রোগের অগ্রগতি বন্ধ ছিল। যকৃত ক্যানসারে এই হার ৩২ শতাংশ, মূত্রথলি ক্যানসারে ৩৬ শতাংশ, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে ৩৮ শতাংশ, অন্ত্রের ক্যানসারে ৫১ শতাংশ এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ৫৫ শতাংশ।

গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক ফিওনা থিস্টলথওয়েট বলেন, “ট্যাবলেট আকারে গ্রহণযোগ্য একটি ওষুধের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। এটি একটি নতুন প্রক্রিয়ায় কাজ করে এবং স্পষ্টভাবে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। যদিও আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন, তবুও ফলাফল আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় সাধারণত আমরা শুধু নিরাপত্তা মূল্যায়ন করি। কিন্তু এখানে আমরা একাধিক কঠিন ও চিকিৎসা-প্রতিরোধী ক্যানসারে কার্যকারিতার শক্তিশালী ইঙ্গিত পেয়েছি, যা অত্যন্ত বিরল ঘটনা।”

গবেষণায় দেখা গেছে, রোগীরা ওষুধটি ভালোভাবে সহ্য করেছেন এবং উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে বসে ট্যাবলেট সেবনের সুবিধাও রোগীদের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক।

এডিনবার্গ ক্যানসার সেন্টারের চিকিৎসা অনকোলজিস্ট অধ্যাপক স্টেফান সিমিওনিডিস বলেন, “নতুন এই ইমিউনোথেরাপি কৌশলকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নিয়ে আসা এবং রোগীদের মধ্যে ইতিবাচক ফল দেখতে পাওয়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।”

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি এখনও প্রথম ধাপের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। তাই দীর্ঘমেয়াদে রোগীদের জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।

ক্যানসার রিসার্চ ইউকের গবেষণা তথ্যবিষয়ক প্রধান ডা. স্যামুয়েল গডফ্রে বলেন, “ইমিউনোথেরাপি ইতোমধ্যে ক্যানসার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু এখনও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এটি কাজ করে না। নতুন এই ওষুধ ইমিউনোথেরাপিকে আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। যদিও এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না, তবুও প্রাথমিক ফলাফল নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।”

গবেষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরীক্ষাটি চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই আরও বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সফল হলে ভবিষ্যতে ক্যানসারের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসায় এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

দইয়ের সঙ্গে যেসব খাবার খেতে মানা

অনলাইন ডেস্ক

ভ্যাকসিনে রক্ত জমাট বাঁধার রহস্য খুঁজে পেয়েছে জার্মান বিজ্ঞানীরা

অনলাইন ডেস্ক

 যে ধরনের প্রপার্টিতে মর্গেজ পাওয়া কঠিন

অনলাইন ডেস্ক