12.6 C
London
October 7, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বড় সুযোগঃ বাংলাদেশকে সরাসরি এলএনজি দিতে চায় রাশিয়া

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরাসরি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে বাংলাদেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের কাজে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এসব প্রস্তাব উঠে এসেছে।

রুশ প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বাংলাদেশকে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সরাসরি এলএনজি সরবরাহ করা। বর্তমানে দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গৃহস্থালি চাহিদার বিপরীতে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় আমদানিনির্ভর এলএনজির গুরুত্ব বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সরাসরি এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধানে গ্যাজপ্রমের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাশিয়ার এই রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে কাজ করেছে। ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সম্ভাবনা যাচাই ও নতুন কূপ খননের কাজে রুশ প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

শুধু প্রাকৃতিক গ্যাস নয়, বাংলাদেশকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া। অর্থাৎ এলএনজি, গ্যাস অনুসন্ধান এবং জ্বালানি তেল—তিন ক্ষেত্রেই দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালনার বিষয়েও বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারনির্ভরতা এবং রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি আমদানির অর্থ পরিশোধ কীভাবে করা হবে—তা এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। রুশ জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ, ব্যাংকিং চ্যানেল এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় লেনদেনের জটিলতা রয়েছে। অতীতে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রাশিয়ার কিছু জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

আরেকটি বড় বিষয় হলো মূল্য। স্বল্পমেয়াদি এলএনজি বা জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাজারের প্রচলিত দামের তুলনায় কতটা প্রতিযোগিতামূলক হবে, সেটিও বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। শুধু সরবরাহ নিশ্চিত করাই নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, পরিবহন ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির শর্ত এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতিও মূল্যায়ন করতে হবে।

তবে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে রাশিয়ার প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব না হলে আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাজনিত ঝুঁকিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। এর আগে রুশ জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ছাড় বা ওয়েভার পাওয়ার নজির রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের জ্বালানি চুক্তি হলে কূটনৈতিক ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামনে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নতুন একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে। তবে কোনো একক দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে মূল্য, সরবরাহের নিশ্চয়তা, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা, নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা—সবগুলো বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে রাশিয়ার এলএনজি সরবরাহ, গ্যাজপ্রমের গ্যাস অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রস্তাবগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে মূলত দাম, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের ওপর।

সূত্রঃ বাসস

এম.কে

আরো পড়ুন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

এক পাউন্ডে ১৫৪ টাকা, দরপতনে রেকর্ড

২৩,৮৬৫টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারঃ আইন মন্ত্রণালয়