যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারের ব্র্যাকনেলে নিজের বাড়ির নিচতলার শৌচাগারে প্রায় তিন ফুট লম্বা একটি সাপ দেখতে পেয়ে চরম বিস্মিত হয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী ডেভিড ক্ল্যারিজ। মঙ্গলবার সকালে শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে কমোডের ঢাকনা তুলতেই তার চোখে পড়ে হলুদ-কালো রঙের একটি অস্বাভাবিক বস্তু। ভালোভাবে তাকানোর পর তিনি বুঝতে পারেন, সেটি আসলে একটি জীবন্ত সাপ।
ডেভিড ক্ল্যারিজ জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো ভুল দেখছেন। কিন্তু আবার তাকানোর পর নিশ্চিত হন যে কমোডের ভেতরে সত্যিই একটি সাপ রয়েছে। কিছুক্ষণ পর সাপটি নড়াচড়া করায় আর কোনো সন্দেহ থাকে না।
পরে সাপটিকে প্রায় তিন ফুট বা শূন্য দশমিক নয় মিটার লম্বা একটি ঘাসসাপ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এটি বিষধর প্রজাতির নয় জানতে পেরে ক্ল্যারিজ স্বস্তি পান। তবে সাপটিকে খালি হাতে ধরার ঝুঁকি নেননি তিনি।
বরং বারবিকিউয়ের চিমটা ব্যবহার করে সাপটিকে কমোড থেকে বের করেন। এরপর সেটিকে বাড়ির বাইরে বাগানে নিয়ে যান। সেখানে ছেড়ে দেওয়ার পর সাপটি প্রথমে আবার বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ক্ল্যারিজ সেটিকে ধীরে ধীরে অন্যদিকে সরিয়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত সাপটি ঘাসের মধ্যে চলে যায়।
ক্ল্যারিজের ধারণা, বাড়ির নিষ্কাশনব্যবস্থার পথ ধরেই সাপটি সেখানে পৌঁছেছে। তার বাড়ির শৌচাগারের বর্জ্য নিষ্কাশনের নালার কাছেই একটি বৃষ্টির পানির নালা রয়েছে। আগে এই দুটি ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ থাকতে পারে—এ বিষয়টি তিনি জানতেন না।
সাম্প্রতিক গরম আবহাওয়াকেও ঘটনাটির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পানির সন্ধানে সাপটি নিষ্কাশনব্যবস্থার ভেতর দিয়ে এগিয়ে এসে শেষ পর্যন্ত শৌচাগারের কমোডে উঠে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর আরও একটি মজার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কাছের এক বাসিন্দা যোগাযোগ করে জানান, কমোডে পাওয়া সাপটি হয়তো তার হারিয়ে যাওয়া পোষা সাপ। তবে পরে জানা যায়, তার পোষা মাকড়সা অজগরটি নিরাপদেই ছিল এবং পরদিন সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায়।
ক্ল্যারিজের মতে, সাপটি যদি দীর্ঘ সময় কমোডের ভেতরে আটকে থাকত, তাহলে সেটি মারা যেতে পারত। তাকে উদ্ধার করে বাইরে ছেড়ে দেওয়ার ফলে প্রাণীটি যেন নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

