জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর তিনি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্বের পর ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে শপথ নেন খলিলুর রহমান। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতীয় এক সাংবাদিক তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যেখানে ব্রেক্সিটের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যাবেন কিনা সেটাও ছিল। জবাবে খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জাতীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন না। এই দায়িত্ব সম্পূর্ণ আলাদা এবং তিনি সভাপতির ভূমিকায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চান।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, প্রশ্ন প্রস্তুত করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন হলে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আলাদাভাবে কথা বলবেন বলেও জানান।
জাতিসংঘের সংস্কার নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। তিনি মহাসচিবের ‘ইউএন৮০’ উদ্যোগের প্রক্রিয়াকে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান। তার বক্তব্যে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কখনো তিনি এই সংস্থায় প্রতিনিধি হিসেবে, আবার কখনো কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে জাতিসংঘের কার্যক্রমকে তিনি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘকে তিনি যেন ‘৩৬০ ডিগ্রি’ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন সংকট, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে আলোচনা হয়। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ কূটনীতিকের এই দায়িত্ব গ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এ দায়িত্বের বিশেষ তাৎপর্য হলো—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে খলিলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। এতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রঃ জাতিসংঘের ইউএন ওয়েব টিভি
এম.কে

