17.1 C
London
October 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে যুক্তরাজ্যে বাড়ছে বিদ্যুৎ-গ্যাস চুরি

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে নিশ্চিত জ্বালানি চুরির ঘটনা ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স পরিচালিত ‘স্টে সেফ এনার্জি’র তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস চুরির নিশ্চিত ঘটনা ছিল ১৭ হাজার ৪২২টি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৫৪টিতে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও বড় আকার নিয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যবসায় জ্বালানি চুরির ঘটনা ছিল ৯৯৬টি। পাঁচ বছর পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৭৪৭টিতে পৌঁছেছে—অর্থাৎ তিনগুণেরও বেশি।

এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যের গড় পরিবারের জ্বালানি বিলও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি বিল ছিল প্রায় ১ হাজার ৩৩১ পাউন্ড। ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৬৪ পাউন্ড—পাঁচ বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি।

জ্বালানি চুরির সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের সম্পর্কও জরিপে উঠে এসেছে। স্টে সেফ এনার্জির জন্য দুই হাজারের বেশি মানুষের ওপর চালানো জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বাড়তে থাকা বিলের চাপে কিছু পরিবার কেন জ্বালানি চুরি করছে, তা বোঝা যায়। আর ৩৮ শতাংশ মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ প্রতারণার উদ্দেশ্যে নয়, আর্থিক প্রয়োজনের কারণে জ্বালানি চুরি করছে।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস চুরির ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। লন্ডনের পর সবচেয়ে বেশি ঘটনার তালিকায় লিভারপুল, লিডস, শেফিল্ড, ব্র্যাডফোর্ড ও ডনকাস্টারের মতো শহর রয়েছে।

জ্বালানি চুরির কারণে শিল্পখাতের বছরে ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার বিলের ওপরও পড়তে পারে। পাশাপাশি অবৈধভাবে মিটার পরিবর্তন বা বিদ্যুৎ সংযোগে হস্তক্ষেপের কারণে আগুন, বিস্ফোরণ ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্টে সেফ এনার্জি জানিয়েছে, পাঁচ বছরে ১ লাখের বেশি নিশ্চিত জ্বালানি চুরির ঘটনা পাওয়া যাওয়াকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। সংস্থাটির মতে, মিটারে কারসাজি শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এটি কখনও কখনও গুরুতর সংগঠিত অপরাধের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বাইপাস করা মিটার, অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ কিংবা মিটার বক্স ও প্রধান বিদ্যুৎ সংযোগের আশপাশে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখা গেলে তা কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। সন্দেহজনক জ্বালানি চুরির তথ্য বেনামেও জানানো যায়।

তবে জরিপে জ্বালানি চুরির ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতিও দেখা গেছে। পাঁচজনের মধ্যে প্রায় দুজন মনে করেন, বিষয়টি সত্যিই বিপজ্জনক হলে এ নিয়ে আরও বেশি দুর্ঘটনার খবর শোনা যেত। প্রায় চারজনের একজন মনে করেন, আগুন বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত জ্বালানি চুরি বড় সমস্যা হয়ে ওঠে না।

যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ চুরির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সীমাহীন জরিমানার বিধান রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৭ শতাংশ মানুষ এরপরও জ্বালানি চুরির বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাগুলোতে তথাকথিত ‘ফ্রেন্ডলি ফ্রড’ বা ভুয়া চার্জব্যাকের ঘটনাও বাড়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় কোনো ক্রেতা সত্যিকার অর্থে পণ্য কেনার পরও ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড প্রতিষ্ঠানকে দাবি করেন যে তিনি ওই লেনদেন করেননি। পরে ক্রেতাকে অর্থ ফেরত দেওয়া হলে সেই অর্থ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হয় এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াগত ফিও দিতে হয়।

ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান ইউকে ফাইন্যান্স জানিয়েছে, চার্জব্যাক ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভোক্তারা মিথ্যা দাবি করছেন বলেও তারা স্বীকার করেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন রেকর্ড সংখ্যক মার্কিনি

এবার ওমিক্রনের টিকার অনুমোদন দিল যুক্তরাজ্য

লন্ডনের গ্যারেজের সমান দামে বিক্রি হচ্ছে স্কটিশ দ্বীপ!

নিউজ ডেস্ক