23.7 C
London
August 16, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

টেক্সাসের দুই বিমানবন্দরে মুসলিমদের অজু ও প্রার্থনার সুবিধা নিয়ে গভর্নরের আপত্তি

টেক্সাসের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের অজু ও প্রার্থনার সুবিধা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DFW) এবং হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে থাকা বা প্রস্তাবিত এসব ধর্মীয় সুবিধা নিয়ে সম্ভাব্য ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বিমানবন্দর দুটির জন্য দেওয়া রাষ্ট্রীয় অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

গভর্নরের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন পর্যালোচনা করে দেখা হবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান অনুদান প্রত্যাহার করা বা ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল আটকে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

অ্যাবটের অভিযোগের মূল বিষয় হলো—সরকারি মালিকানাধীন স্থাপনায় কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি সুবিধা দেওয়া হলে তা ধর্মীয় বৈষম্যের আওতায় পড়তে পারে। তার দাবি, সরকারি প্রতিষ্ঠান কোনো একটি ধর্মীয় বিশ্বাসকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।

গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ডিএফডব্লিউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য বিশেষ অজুর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একই ধরনের অজুর সুবিধা চালু হয়েছে এবং সেখানে একটি প্রার্থনার স্থানও রয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন সচিব শন ডাফিকে চিঠি দিয়েছেন গ্রেগ অ্যাবট। চিঠিতে তিনি মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (এফএএ) ডিএফডব্লিউ ও আইএএইচ বিমানবন্দরের বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত ধর্মীয় সুবিধাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রয়োজনে এসব সুবিধার বিষয়ে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ কিংবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন তিনি। অ্যাবটের যুক্তি, উভয় বিমানবন্দরই ফেডারেল তহবিল গ্রহণ করে এবং তাই তাদের ফেডারেল বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হয়।

গভর্নর তার বিবৃতিতে বলেন, অজুর সুবিধাগুলো যদি ধর্মের ভিত্তিতে জনগণের একটি নির্দিষ্ট অংশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আইনগত প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি স্থাপনায় ধর্মীয় বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।

তবে বিষয়টি শুধু বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সমান আচরণ এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় অনুশীলনের সুযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নীতিগত প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।

এখন মূল নজর থাকবে মার্কিন পরিবহন বিভাগ ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তাদের পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ডিএফডব্লিউ ও জর্জ বুশ বিমানবন্দরের এসব অজু ও প্রার্থনার সুবিধা নিয়ে বিতর্ক কোন দিকে এগোয়।

সূত্রঃ জে এন

এম.কে

আরো পড়ুন

ক্লিনটন ইনিশিয়েটিভের অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের সঙ্গে মঞ্চে উঠা কে এই তৃতীয় তরুণ, অনুপ্রবেশকারী?

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট হলো ১৩ বছরের কিশোর

ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা এগিয়ে নিতে পারবে এফটিসি

অনলাইন ডেস্ক