24 C
London
June 18, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ডিজিটাল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা, ই-ভিসা প্রকল্প কয়েক বছর পিছিয়ে দিল যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল ইমিগ্রেশন বা ই-ভিসা ব্যবস্থার আওতায় আনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বড় ধরনের কারিগরি সংকটে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার নানা ত্রুটি ও ডেটা ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে প্রকল্পটি কয়েক বছরের জন্য পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস)।

সরকারের পরিকল্পনা ছিল কাগজভিত্তিক ও প্লাস্টিক কার্ডনির্ভর অভিবাসন নথির পরিবর্তে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পরিচয়ভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করা। এর অংশ হিসেবে লাখ লাখ বিদেশি নাগরিকের বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট (বিআরপি) কার্ড বাতিল করে অনলাইন ই-ভিসা অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে বাস্তবায়নের সময় একের পর এক প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে পুরো প্রকল্প।

হোম অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিজিটাল অবকাঠামো প্রত্যাশিতভাবে কাজ না করায় এবং তথ্যভান্ডারে গুরুতর অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় পুরো ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈধ অভিবাসীদের ভোগান্তি কমাতে মেয়াদোত্তীর্ণ বিআরপি কার্ডের ব্যবহারিক বৈধতা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কয়েক মিলিয়ন ভিসাধারী, শিক্ষার্থী, কর্মী ও স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে ই-ভিসা ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হচ্ছেন। কিন্তু অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় অনেক ব্যবহারকারী তাদের অ্যাকাউন্টে ভুল তথ্য দেখতে পাচ্ছেন।

কিছু ক্ষেত্রে ভিসার প্রকৃত ধরন পরিবর্তিত হয়ে অন্য ক্যাটাগরিতে প্রদর্শিত হচ্ছে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ, কর্মসংস্থানের অধিকার কিংবা বসবাসের অনুমতির তথ্য সঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কিছু ব্যবহারকারীর তথ্য সম্পূর্ণভাবে অনলাইন রেকর্ড থেকে হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ত্রুটির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন প্রবাসীরা। বিমানবন্দরে প্রবেশ কিংবা দেশে ফেরার সময় সীমান্ত কর্মকর্তারা যদি অনলাইন সিস্টেমে সঠিক তথ্য খুঁজে না পান, তাহলে বৈধ ভিসাধারীরাও জিজ্ঞাসাবাদ, বিলম্ব বা সাময়িক আটকের মুখোমুখি হতে পারেন।

আইনজীবীরা অভিবাসীদের ভ্রমণের আগে ই-ভিসা অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি পুরোনো বিআরপি কার্ড, ভিসা অনুমোদনের চিঠি, চাকরি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রমাণপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলছেন, ডিজিটাল রেকর্ডে ভুল থাকলে দ্রুত হোম অফিসকে অবহিত করে সংশোধনের আবেদন করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কাগজমুক্ত করার লক্ষ্য ইতিবাচক হলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্য ডেটা ব্যবস্থাপনা ছাড়া এমন বৃহৎ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা কঠিন। বর্তমানে যে সমস্যাগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে লাখ লাখ অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং বিদেশি কর্মী দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারেন।

এদিকে হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করতে কাজ চলছে। ব্যবহারকারীদের তথ্যগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। তবে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে এখনও বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এনার্জি বিল

যুক্তরাজ্যের পূর্ব ইংল্যান্ডে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্যের দরিদ্রতম পরিবার আয়ের বেশিরভাগ অংশ কাউন্সিল ট্যাক্সে ব্যয় করছেঃ গবেষণা