TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ড্রাইভওয়ে থাকলে সুবিধা, না থাকলে বাড়তি খরচ—ইভি চার্জিং ভ্যাট নিয়ে বিতর্কে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ঘোষিত গৃহস্থালি বিদ্যুতের ওপর ভ্যাট সাময়িকভাবে শূন্যে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হলেও, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ এই সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কারণ, নতুন এই করছাড় শুধুমাত্র গৃহস্থালি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; পাবলিক চার্জিং স্টেশন ব্যবহারকারীদের জন্য আগের মতোই ২০ শতাংশ ভ্যাট বহাল থাকবে। এতে বৈদ্যুতিক গাড়ির চালকদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ছয় মাসের জন্য গৃহস্থালি বিদ্যুতের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। এর ফলে যারা নিজস্ব বাড়িতে বা ড্রাইভওয়েতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করতে পারেন, তাদের খরচ আরও কমে যাবে। তবে যাদের নিজস্ব চার্জিং সুবিধা নেই এবং পাবলিক চার্জিং নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করতে হয়, তারা এই করছাড়ের আওতায় থাকবেন না।

অনলাইন গাড়ি বিক্রির প্ল্যাটফর্ম Carwow-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ট্যারিফ ব্যবহার করলে একটি ১০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) ব্যাটারির বৈদ্যুতিক গাড়ি মাত্র ৮ পাউন্ডে পুরো চার্জ করা সম্ভব। ৫০০ মাইল রেঞ্জের একটি গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি মাইলে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১.৬ পেন্স। নতুন ভ্যাট ছাড় কার্যকর হলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই সুবিধা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিলে এই খরচ ১.৫২ পেন্স পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

অন্যদিকে, আইওয়োনিটি-এর মতো পাবলিক চার্জিং নেটওয়ার্কে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য ৮১ পেন্স। ফলে একই ক্ষমতার একটি গাড়ি চার্জ করতে খরচ হয় ৮১ পাউন্ড। ৪০০ মাইল রেঞ্জের গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি মাইলে চার্জিং ব্যয় দাঁড়ায় ১৬.২ পেন্স, আর ৫০০ মাইল রেঞ্জের ক্ষেত্রে তা প্রায় ২০ পেন্স। অর্থাৎ, নিজস্ব চার্জিং সুবিধা না থাকায় অনেক চালককে একই বিদ্যুতের জন্য বহু গুণ বেশি খরচ বহন করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিকে “অন্যায্য” আখ্যা দিয়ে শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে পাবলিক চার্জিংয়ের ওপরও ভ্যাট কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

পাবলিক চার্জিং অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান char.gy-এর প্রধান নির্বাহী জন লুইস বলেন, নতুন নীতি বর্তমান ভ্যাট ব্যবস্থার বৈষম্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তার ভাষায়, বিদ্যুৎ একই হলেও শুধুমাত্র চার্জ দেওয়ার স্থানের কারণে করের হার আলাদা হওয়া উচিত নয়। তাই পাবলিক চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও গৃহস্থালি বিদ্যুতের মতো একই ভ্যাট সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইলেকট্রিক ভেইকল ইউকে। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী তানিয়া সিনক্লেয়ার বলেন, যাদের বাড়িতে অফ-স্ট্রিট পার্কিং নেই, তাদের লাখো মানুষ বাধ্য হয়ে পাবলিক চার্জারে ২০ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করছেন। অন্যদিকে যাদের ড্রাইভওয়ে রয়েছে, তারা নতুন নীতির ফলে কোনো ভ্যাটই দেবেন না। তার মতে, সরকার যদি সত্যিকার অর্থে ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈদ্যুতিক গাড়ি রূপান্তর নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে একই বিদ্যুতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন করহার রাখা উচিত নয়।

এর আগে RAC-এর জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা রড ডেনিসও মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাজ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও পাবলিক চার্জিং ব্যবহারকারীরা এখনও উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ বহন করছেন। তার মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার আরও উৎসাহিত করতে হলে পাবলিক চার্জিংয়ের ওপর ভ্যাট গৃহস্থালি বিদ্যুতের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের নতুন ভ্যাট নীতি একদিকে গৃহস্থালি পর্যায়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের খরচ কমাবে, অন্যদিকে যাদের নিজস্ব চার্জিং সুবিধা নেই—বিশেষ করে ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারী এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ফলে যুক্তরাজ্যের বৈদ্যুতিক যানবাহনে রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই নীতির প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ১০ বছর আগে স্বামীর হাতে খুন হওয়া স্ত্রী’র লাশ খুঁজে পেল পুলিশ

অপরাধী ও ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দিতে প্রীতি প্যাটেলের নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাজ্য ঘানাকে ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছে ১৫০ বছর আগের ইতিহাসের অংশ