TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

তিন দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান গ্রহণের অংশ হিসেবে মিশর, জর্ডান এবং লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নভেম্বরে এই গোষ্ঠীগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, তার কয়েক সপ্তাহ পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে সংগঠনগুলোর আর্থিক লেনদেন বন্ধ হওয়াসহ এদের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, মুসলিম ব্রাদারহুডের মিশর ও জর্ডান শাখাকে সাধারণ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে লেবাননের শাখাটিকে আরও কঠোর আইনি পরিভাষা ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ বা এফটিও (FTO) হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিহত করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হওয়া বা সমর্থন দেওয়ার অপরাধে এই গোষ্ঠীগুলোকে যাবতীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে আমেরিকা তার হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ও ক্ষমতা ব্যবহার করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে এই তিন সংগঠনের জন্য যেকোনো ধরনের বস্তুগত বা আর্থিক সহায়তা প্রদান এখন থেকে মার্কিন আইনে অবৈধ বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সংগঠনগুলোর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া বা দেশটিতে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া তাদের বিদ্যমান রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করতে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের পাশাপাশি এই রাজনৈতিক-ধর্মীয় সংগঠনগুলোর প্রভাব খর্ব করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে।

১৯২৮ সালে মিশরীয় ইসলামি পণ্ডিত হাসান আল-বান্নার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী সংগঠন। সংগঠনটির বিভিন্ন শাখা আরব বিশ্বের দেশগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় রয়েছে এবং তারা সবসময়ই দাবি করে আসছে যে তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য বিদ্রোহীদের দখলে

হামাসকে অর্থ দেয় ইসরায়েল: ইইউ

ইউরোপে আশ্রয়ঃ বাংলাদেশসহ কিছু দেশের সামনে বড় বাঁধা