TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

তীব্র গরমে পানি সংকটঃ বাগানে পানি দেওয়া, গাড়ি ধোয়া নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যে

অস্বাভাবিক উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেমস ওয়াটার লন্ডনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় হোসপাইপ ব্যবহারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রতিষ্ঠানটির পানীয় জল সরবরাহ গ্রহণকারী প্রায় ১ কোটি ১ লাখ গ্রাহক পড়বেন। পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

টেমস ওয়াটার জানিয়েছে, চলতি বছরে তাদের সেবা এলাকায় স্বাভাবিকের মাত্র ৪০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিনের সংখ্যাও অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। দীর্ঘদিনের খরা ও একের পর এক তাপপ্রবাহের কারণে পানি ব্যবহারের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত পানি সম্পদ বিভাগের পরিচালক নেভিল মানকাস্টার বলেন, সবার জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, প্রয়োজনীয় ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পানি থাকলেও অপ্রয়োজনীয় বাইরের ব্যবহার কমানো না হলে সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় হোসপাইপ বা উচ্চচাপের পানি ছিটানোর যন্ত্র ব্যবহার করে বাগান, লন বা অ্যালটমেন্টে পানি দেওয়া, গাড়ি ধোয়া, সুইমিং পুল, শিশুদের পুল বা হট টাবে পানি ভরা এবং জানালা, দেয়াল, ড্রাইভওয়ে, পথ বা বাইরের অন্যান্য স্থান পরিষ্কার করা যাবে না। তবে বালতি ব্যবহার করে গাড়ি ধোয়া এবং পানি দেওয়ার ক্যান দিয়ে গাছে পানি দেওয়ার অনুমতি থাকবে।

টেমস ওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে টেমস ভ্যালি ও আশপাশের কাউন্টিগুলোতে পানির ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশ এবং লন্ডনে ৭ শতাংশ বেশি। এর ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১০ কোটি লিটার পানি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গরমের সময় কিছু এলাকায় পানি ব্যবহারের গতি এতটাই বেড়ে গেছে যে পরিশোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত পানি ব্যবহার হচ্ছে, যা স্থানীয় নেটওয়ার্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে পানীয়, রান্না, গোসল এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার মতো প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এছাড়া স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন, প্রতিবন্ধী বা বিশেষ শারীরিক অবস্থার কারণে যাদের পানি ব্যবহার সীমিত করা সম্ভব নয়, খাদ্যশস্য ও নির্দিষ্ট নতুন গাছের পরিচর্যা এবং প্রাণীর কল্যাণের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।

টেমস ওয়াটার বর্তমানে প্রায় ২০০০ কোটি পাউন্ড ঋণের বোঝা বহন করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিকে উদ্ধারসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হলে তা ঠেকাতে প্রধান ঋণদাতারা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে শুধু টেমস ওয়াটার নয়, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের সাউথ ইস্ট ওয়াটারও কেন্টের পাশাপাশি সারে, সাসেক্স, হ্যাম্পশায়ার ও বার্কশায়ারের কিছু এলাকায় হোসপাইপ নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যে সাউদার্ন ওয়াটার, সাউথ ওয়েস্ট ওয়াটার, ওয়েলশ ওয়াটার, ক্যামব্রিজ ওয়াটার, অ্যাংলিয়ান ওয়াটার এবং অ্যাফিনিটি ওয়াটারের বিভিন্ন সেবা এলাকাতেও কার্যকর রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ার একাধিক রেকর্ড ভেঙেছে। দক্ষিণ ইংল্যান্ডের অনেক এলাকায় টানা চার সপ্তাহেরও বেশি সময় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে ১৯৭৬ সালের ঐতিহাসিক খরার পর সবচেয়ে বড় পানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ

নাইজেল ফারেজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ নিয়ে যুক্তরাজ্যে তোলপাড়

নিক ক্লেগকে গোপন তথ্য সরবরাহ করছেন সরকারি কর্মকর্তা!