TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

দক্ষিণ লন্ডনে পুলিশের বড় অভিযানঃ প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড নগদ অর্থ ও ১ কেজি কোকেন জব্দ

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। দক্ষিণ লন্ডনের ক্যাটফোর্ড এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড নগদ অর্থ এবং প্রায় ১ কেজি কোকেন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লন্ডনে তাদের সবচেয়ে বড় নগদ অর্থ উদ্ধারের অন্যতম ঘটনা।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার একটি সন্দেহজনক গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় চালকের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্যাটফোর্ড এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

বাড়িটিতে প্রবেশ করে পুলিশ দুটি শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করে। অর্থগুলো বিভিন্ন বান্ডিলে ভাগ করে জনপ্রিয় সুপারমার্কেট লিডল ও সেইন্সবারির শপিং ব্যাগে ভরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। একই অভিযানে প্রায় ১ কেজি কোকেনও জব্দ করা হয়, যার অবৈধ বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য।

এ ঘটনায় ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে অপরাধমূলক সম্পদ নিজের দখলে রাখা এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নগদ অর্থ ও মাদকের উৎস, সম্ভাব্য পাচার নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশালিস্ট ক্রাইম বিভাগের কমান্ডার পল ব্রগডেন বলেন, লন্ডনে পুলিশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় নগদ অর্থ জব্দের ঘটনা। তার ভাষায়, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অভিযানের মাধ্যমে সেসব নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, এই অভিযান মাদক ব্যবসা ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ আন্তর্জাতিক বা আন্তঃআঞ্চলিক মাদক ব্যবসা, অর্থপাচার অথবা অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। এজন্য বিশেষজ্ঞ আর্থিক তদন্তকারীরাও এ মামলার তদন্তে যুক্ত হয়েছেন, যাতে অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরণ এবং সম্ভাব্য অপরাধচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা যায়।

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে অপরাধমূলক সম্পদ আইন এবং অর্থপাচারবিরোধী আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ জব্দ এবং অপরাধীদের আর্থিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়াই এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম প্রধান কৌশল।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ ও মাদকের সঙ্গে আরও ব্যক্তি বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি \ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ETA ছাড়া আর যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ নয়ঃ ৮৫ দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়ম

যুক্তরাজ্যে হত্যা মামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে পুলিশ সদস্যরা

লন্ডনের বাংলাদেশি পাড়ায় নির্বাচন আলোচনা তুঙ্গেঃ কিন্তু অংশগ্রহণে ভাটা