7 C
London
March 25, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

দিয়েগো গার্সিয়ায় হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিল ইরানঃ ‘সাজানো নাটক’ দাবি

ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান এই ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘সাজানো হামলা’ বলে দাবি করেছে এবং একে পরিকল্পিত ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি একটি সুপরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা। তিনি বলেন, এমনকি ন্যাটোর মহাসচিবও ইসরায়েলের দাবি সমর্থন করতে পারেননি, যা পুরো বিষয়টির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

অন্যদিকে, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে জানিয়েছেন, হামলায় ইরানের আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের যে দাবি করা হয়েছে, তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং একে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।

গত শুক্রবার দিয়েগো গার্সিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দাবি করা হয়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছে। দ্বীপটি ইরান থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে হওয়ায়, এ ঘটনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি জানিয়েছেন, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েগো গার্সিয়ার দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে একটি লক্ষ্যবস্তুর অনেক আগেই পতিত হয় এবং অন্যটি আকাশেই প্রতিহত করা হয়। তিনি বলেন, কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই ঘাঁটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি এবং সেখানে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ আবাসনমন্ত্রী স্টিভ রিড জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাজ্যে হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন কোনো গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে নেই। এমনকি ইরানের সেই সক্ষমতাও নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির দাবি করেছেন, হামলায় ইরান দুই স্তরের আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার পাল্লা প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। এই দাবি সত্য হলে তা ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করবে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পূর্বেই জানিয়েছেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ইচ্ছাকৃতভাবে দুই হাজার কিলোমিটারের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যাতে বিশ্বে কোনো দেশ তাদের হুমকি হিসেবে বিবেচনা না করে।

দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রায় আড়াই হাজার কর্মী নিয়ে পরিচালিত এই ঘাঁটি ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এটি শক্তিশালী বোমারু ও নজরদারি বিমানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হামলা সফল হয়েছে কি না, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই ঘাঁটিকে হামলার আওতায় দেখানো। এর ফলে সামরিক ও রাজনৈতিক বার্তা আরও তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

ব্রাসেলসভিত্তিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, এই ধরনের ঘটনা দেখায় যে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। তার মতে, এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সামগ্রিকভাবে, দিয়েগো গার্সিয়াকে ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি দাবি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অপরকে দায়ী করলেও, এখনো পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট সত্যতা নিশ্চিত হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্রঃ আল–জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

হোম অফিসকে যেভাবে আনন্দময় করে তুলতে পারবেন

অনলাইন ডেস্ক

শ্রম ভিসায় হজ-ওমরাহ পালনের নীতিতে যে পরিবর্তন আনল সৌদি আরব

ইইউ- ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা