TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

নিউহ্যামে বাঙালিদের মন জয় করতে বাংলায় মেয়র ফরহাদ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন চমক

নাগরিকদের কাছে সরকারি সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দিতে বাংলা ভাষাকে বেছে নিয়েছেন নিউহ্যাম কাউন্সিলের মেয়র ফরহাদ হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলায় দেওয়া তার সাম্প্রতিক বার্তা ইতোমধ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও বাংলা ভাষাভাষী কমিউনিটির মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
নিউহ্যামের মেয়রের এই উদ্যোগের বিশেষ দিক হলো—তিনি সিলেট ও বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত হলেও বাংলা তার প্রথম ভাষা নয়। তবে মা-বাবার ভাষা বাংলাকে তিনি নিজের ব্যারোর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।
সম্প্রতি বিনামূল্যে বড় আকারের বর্জ্য সংগ্রহ সেবা নিয়ে প্রচারণার অংশ হিসেবে মেয়র ফরহাদ হোসেন বাংলায় নাগরিকদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি জানান, নিউহ্যাম কাউন্সিলের বাসিন্দারা বছরে তিনবার বিনামূল্যে বড় আকারের বর্জ্য সংগ্রহের সেবা বুক করতে পারবেন। পাশাপাশি কাউন্সিলের ওয়েবসাইটের তথ্য এক ক্লিকেই বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করার সুবিধার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মেয়রের এই উদ্যোগকে নিউহ্যামের বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউহ্যামে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে নাগরিকসেবার তথ্য তাদের কাছে সহজ ও পরিচিত ভাষায় পৌঁছে দেওয়া স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগকে আরও কার্যকর করতে পারে।
বাংলা ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি তথ্য প্রচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবেও নতুন নয়। নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির মতো জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সেই ধারায় লন্ডনের নিউহ্যামে মেয়র ফরহাদ হোসেনের বাংলায় তথ্য প্রচারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আলাদা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ফরহাদ হোসেনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ বাংলা তার প্রথম ভাষা না হলেও পারিবারিক শিকড়ের ভাষাকে তিনি জনসেবার যোগাযোগে ব্যবহার করছেন। এতে শুধু বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাসিন্দারাই নয়, বাংলা ভাষায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছেও কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেটি বংশোদ্ভূত একজন জনপ্রতিনিধি যখন নিজের পরিবারের ভাষা বাংলাকে স্থানীয় প্রশাসনের নাগরিকসেবা প্রচারের কাজে ব্যবহার করেন, তখন তা ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে অভিবাসী কমিউনিটির ভাষা ও পরিচয়ের স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সূত্রঃ নিউহ্যাম কাউন্সিলের সরকারি প্রতিবেদন \ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের দখলে যাচ্ছে বাংলাদেশের শস্যের বাজার

আসিফ নজরুলের সঙ্গে আওয়ামীপন্থিদের আচরণ শিষ্টাচারবর্হিভূতঃ তারেক রহমান

যুক্তরাজ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় মাসে প্রায় ৭৪৮ পাউন্ড পর্যন্ত বেনিফিট পাওয়ার সুযোগ