18.8 C
London
September 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

১০ বছরের ILR পরিকল্পনায় শিথিলতার ইঙ্গিত শাবানা মাহমুদেরঃ অভিবাসীদের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনা

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার প্রস্তাবে কিছুটা ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। লেবার পার্টির ভেতরে এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই তিনি এ ইঙ্গিত দিলেন।

বর্তমান প্রস্তাবে আইএলআর পাওয়ার সাধারণ অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে। তাদের অনেকেই আগে পাঁচ বছরের পথ ধরে স্থায়ী বসবাসের প্রত্যাশা করছিলেন।

সরকারের ২০২৫ সালের প্রস্তাবিত ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ ব্যবস্থায় স্থায়ী বসবাসকে নির্দিষ্ট সময় পূরণের পরিবর্তে কাজ, জাতীয় বীমা অবদান, ইংরেজি ভাষা, অপরাধমুক্ত রেকর্ডসহ বিভিন্ন শর্তের সঙ্গে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। প্রস্তাবটি এখনো নীতিগত পরিবর্তন ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার অংশ।

লেবার পার্টির সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মাহমুদ বলেন, তার প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো যারা যুক্তরাজ্যের প্রতি ধারাবাহিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা দেখিয়েছেন, তাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা অর্জনের ব্যবস্থা করা। তবে তিনি স্বীকার করেন, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় কেউ কেউ সংস্কারের কিছু অংশকে অন্যায্য বলে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, আইনগতভাবে যুক্তরাজ্যে আসা ব্যক্তিদের জন্য ন্যায্যতা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ন্যায্যতার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা হবে।

তার এই বক্তব্যকে সমালোচকেরা সংস্কারের কিছু অংশে ছাড় দেওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে মাহমুদ পরে স্পষ্ট করেছেন, নীতির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং বিস্তারিত পরিবর্তন শরৎকালে জানানো হবে।

সংস্কার নিয়ে লেবার পার্টির মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ইতোমধ্যে বলেছেন, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করা হলে তা তাদের জন্য অন্যায্যভাবে ‘লক্ষ্য পরিবর্তন’ করার মতো হবে। ট্রেড ইউনিয়ন থেকেও প্রস্তাবের সমালোচনা এসেছে।

বিশেষ করে বিদেশি কেয়ার কর্মীদের আইএলআর সংস্কার থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামাজিক যত্ন খাতে কর্মী সংকট এবং বিদেশি কর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাহমুদ অবশ্য পুরো সংস্কার বাতিলের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, আগের কনজারভেটিভ সরকারের স্বাস্থ্য ও কেয়ার ভিসা কর্মসূচির আওতায় যে পরিমাণ মানুষ যুক্তরাজ্যে এসেছেন, তা সরকারের প্রাথমিক প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও কেয়ার ভিসার মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আসবে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখে পৌঁছায়। মাহমুদের মতে, এই পরিবর্তনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য।

এদিকে আইএলআর সংস্কারের সরকারি প্রস্তাবে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় সাধারণভাবে স্থায়ী বসবাসের জন্য ন্যূনতম ১০ বছর বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের প্রয়োজন হতে পারে। তবে আয়, দক্ষতা, ইংরেজি ভাষা ও অন্যান্য অবদানের ভিত্তিতে অপেক্ষার সময় কমানোর সুযোগ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে।

সরকারের পরামর্শ নথিতে আরও বলা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পেয়েছেন, তাদের কাছ থেকে সেই মর্যাদা প্রত্যাহার করা হবে না।

ফলে বর্তমানে মূল প্রশ্ন হচ্ছে—নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আগে থেকে যুক্তরাজ্যে থাকা পাঁচ বছরের আইএলআর রুটের অভিবাসীদের ক্ষেত্রে তা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং কেয়ার কর্মীদের জন্য কোনো বিশেষ ছাড় রাখা হবে কি না। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্রঃ আই পেপার

এম.কে

আরো পড়ুন

‘ইসলামোফোবিয়া শুধু টোরি কেন্দ্রিক সমস্যা নয়’

যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ারে সেপ্টেম্বরজুড়ে উৎসবের আমেজঃ বিনামূল্যে দেখা যাবে ডিজিটাল শিল্প

যুক্তরাজ্যে হাসপাতালের রোগীদের হোটেলে স্থানান্তর!

অনলাইন ডেস্ক