9.4 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নেতৃত্ব নিয়ে আস্থাহীনতার মেঘঃ লেবার সংকটে ‘শেষ সুযোগ’-এর বার্তা লেবার নেত্রী রেইনারের

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে স্থানীয় নির্বাচনে ভয়াবহ ভরাডুবির পর যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। দলটির প্রভাবশালী নেত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন।

বৃহস্পতিবারের ফলাফলের পর দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বিদ্যমান কৌশলকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে দলটিকে “বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে” না গেলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রেইনারের ভাষ্যমতে, “এটাই হয়তো শেষ সুযোগ”।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের চিত্রটি অত্যন্ত নাটকীয়। ইংল্যান্ডজুড়ে লেবার পার্টি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কাউন্সিলর আসন হারিয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন আধিপত্য ধরে রাখতে না পেরে ওয়েলস পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণও হারিয়েছে দলটি। স্কটল্যান্ডে এসএনপির বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত অগ্রগতি করতে না পারায় সেখানেও দলটি যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ‘ভূমিধস’ পরাজয় স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দলীয় এমপি ও স্থানীয় নেত্রীদের মধ্যে অসন্তোষের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

রেইনার তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে লেবার পার্টি ‘শ্রমজীবী মানুষের দল’ থেকে ধীরে ধীরে ‘সচ্ছল ও সুবিধাভোগী শ্রেণির দলে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি জনগণের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, বৈষম্য ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে সরকারের নীতি প্রণয়নে ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে তিনি আঞ্চলিক মেয়রদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বাড়ানো, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং সরকারি-সমবায় মালিকানার নতুন মডেল চালুর পক্ষে মত দেন।

সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের বিষয়ে রেইনারের অবস্থান। তিনি স্পষ্টতই বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে বার্নহামকে এমপি প্রার্থী হতে না দেওয়াটা ছিল “ভুল সিদ্ধান্ত”। বার্নহামকে ‘দলের সেরা মানুষ’ উল্লেখ করে রেইনার বলেন, “আমাদের সেরা মানুষদের সংসদে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

যদিও দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এমপি না হলে বার্নহাম নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না, তার সমর্থকরা আশা করছেন, পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন যেন ততদিন পিছিয়ে যায় যতদিন না তিনি সংসদে ফিরতে সক্ষম হন। কেননা বর্তমান সংকটে বার্নহামের নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উচ্চারণ করছেন অনেক বিশ্লেষক ও দলীয় সূত্র।

রেইনারের এই মন্তব্য সরাসরি নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ না হলেও বিদ্যমান প্রধানমন্ত্রীর ওপর তা চাপ অসহনীয় করে তুলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। রেইনারের বিবৃতিতে ‘শেষ সুযোগ’ শব্দবন্ধটি ইঙ্গিত করে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটির নেতৃত্ব, নীতি ও কৌশলে আমূল রদবদল না হলে জনগণের কাছে বিদ্যমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইতোমধ্যে স্টারমারের বদলে সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে অ্যাঞ্জেলা রেইনার, ওয়েস স্ট্রিটিং ও অ্যান্ডি বার্নহামের নাম জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। লেবারের এই অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন শেষ পর্যন্ত দলটিকে আবারও ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে যাবে, নাকি দীর্ঘদিনের জন্য বিরোধী দলে ঠেলে দেবে—সেই প্রশ্ন এখন ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে উত্তাল বিতর্ক।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

একে একে ঝাঁপ নামল ক্লেয়ার্সেরঃ ব্রিটিশ হাই স্ট্রিট ছাড়ছে জনপ্রিয় গয়না ব্র্যান্ড

জলবায়ু অভিবাসীদের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

লন্ডনের পিকাডিলি সার্কাসে আবারও রমজান উপলক্ষে বিশেষ আলোকসজ্জা