যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সরকারে বড় ধরনের রদবদল দেখা দিয়েছে। হাউজিং, কমিউনিটিজ অ্যান্ড লোকাল গভর্নমেন্ট মন্ত্রী এবং পেকহ্যামের এমপি মিয়াত্তা ফাহনবুল্লেহ সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি চার মন্ত্রীর একজন যারা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিবিসি লন্ডনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিয়াত্তা ফাহনবুল্লেহ বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার ভোটাররা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন” বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “অনেক ভুল হয়েছে। শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কাটা এবং প্রতিবন্ধীদের উপর কাটছাঁটের মতো সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায়, আমরা আমাদের মূল্যবোধ, উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ছিলাম না। আমরা জনগণ যে স্কেলের পরিবর্তন চায়, সেই ভিশন, স্পষ্টতা ও গতিতে তা দিতে পারছি না।”
ফাহনবুল্লেহের পদত্যাগের সঙ্গে স্যার কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ আরও প্রকট হয়েছে। বর্তমানে ৮০ জনেরও বেশি লেবার এমপি প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সব এমপিই স্টারমারের বিরোধিতায় নন। এলথাম অ্যান্ড চিসেলহার্স্টের এমপি ক্লাইভ এফোর্ড পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি নেতৃত্ব নির্বাচন হয় তাহলে এই সংকট চলতেই থাকবে এবং সরকার অচল হয়ে পড়বে। আমাদের শান্ত হতে হবে। দেশকে প্রথমে রাখতে হবে, দলকে দ্বিতীয় স্থানে।”
এফোর্ড আরও বলেন, “গত সপ্তাহের ফলাফল হতাশাজনক ছিল, এটা স্বীকার করছি। কিন্তু বাজারের অবস্থা দেখুন—সরকারি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের আয়ের উপর প্রভাব ফেলবে। এই মুহূর্তে কিয়ার স্টারমারকে থাকতে হবে। তিনি গত নির্বাচনে বিপুল ম্যান্ডেট পেয়েছেন। লন্ডনে আমরা এখনও অনেক কাউন্সিল ও কাউন্সিলর ধরে রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর হাতে এখনও সময় আছে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়ার।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, বর্তমানে কেউই স্টারমারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার মতো যথেষ্ট সমর্থন পাননি।
এই পদত্যাগগুলো লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাসের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন দিনগুলোতে স্টারমারের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা এবং দলের ঐক্য বজায় রাখা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

