12.1 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘আমেরিকানদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না’ বলে মন্তব্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আমেরিকার সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি উপেক্ষা করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবেন না। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ইরানে হামলা শুরুর পর আমেরিকার মূল্যস্ফীতি তিন বছরের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।

গত এপ্রিল মাসে আমেরিকার ভোক্তা মূল্য সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে যায়। এর প্রভাবে গত বছর ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মজুরির তুলনায় দাম দ্রুত বাড়ছে। গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, অথচ ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে তার চেয়েও বেশি।

শ্রম দপ্তর জানিয়েছে, এপ্রিল মাসেই এককভাবে জ্বালানি দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ এবং গত এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবি না। আমি শুধু একটি বিষয় নিয়ে ভাবি: ইরানকে আমরা পরমাণু অস্ত্র নিতে দিতে পারি না, এটাই সব।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমাদের শেয়ারবাজার যেটি যাইহোক সর্বকালের রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে—কিন্তু শেয়ারবাজার সামান্য ওপরে বা নিচে যাওয়া হোক না কেন, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না, সেটাই মুখ্য।’

গত ফেব্রুয়ারির শেষে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের পেট্রোলের দামে। গ্যালনপ্রতি পেট্রোলের দাম সাড়ে ৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। যুদ্ধ শুরুর আগে গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ২ দশমিক ৯৮ ডলার।

খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে মূল মূল্যস্ফীতিও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গত এক বছরে ফল ও সবজির দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, অ্যালকোহলবিহীন পানীয়র দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। বিমান ভাড়া, গৃহসামগ্রী, ব্যক্তিগত সেবা ও শিক্ষার খরচও উর্ধ্বমুখী।

এমতাবস্থায় রয়টার্স ও ইপসসের জরিপ অনুযায়ী, গত এপ্রিল শেষে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার রেকর্ড নিম্ন ৩৪ শতাংশে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে তার যুদ্ধ আমেরিকানদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়, কারণ তারা ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছিলেন বিদেশি সংঘাত থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতিতে।

অর্থনীতিবিদ ও মূল সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিশ্লেষক সীমা শাহ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভের সুদ হার কমানোর সময়সীমাও পিছিয়ে দিচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে অস্বস্তিকরভাবে আটকে আছে। পাশাপাশি গতিশীল শ্রমবাজার নীতিগত সতর্কতার পক্ষে যুক্তি জোরালো করেছে।

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পরেই দর পতন হয় ওয়াল স্ট্রিটে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, ফেডারেল রিজার্ভ বছর শেষে সুদ হার বাড়াতে পারে, যা ব্যবসার জন্য খরচ বাড়িয়ে তুলবে।

প্রসঙ্গত, ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই শুক্রবার। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন কেভিন ওয়ার্শ; তার মনোনয়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে সিনেটে।

এই মূল্যস্ফীতির ধাক্কা শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। উচ্চ জ্বালানি ও গ্যাসের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাজ্যে গত মার্চে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এপ্রিল পর্যন্ত বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশিত হবে, যা বিশ্ববাজারে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

এই প্রথম উন্নত প্রজাতির ‘সুপার কাউ’ ক্লোন করলো চীন

আমি চার-পাঁচবার নোবেল পাওয়ার যোগ্যঃ ট্রাম্প

যুদ্ধ শেষ হয়নি, ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু এখনও বাকিঃ ট্রাম্প