বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাসের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের মধ্যেই শ্রমিক আন্দোলনের কারণে সফরের সম্ভাব্য সময়সীমা সংকুচিত হয়ে আসছে।
বুধবার ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঢাকা ও নয়াদিল্লি নভেম্বর মাসে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা করছিল। তবে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক অসন্তোষ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সংবাদমাধ্যমটি উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের ভারতনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তার ঘনিষ্ঠ মহলের কিছু ব্যক্তি ভুল পরামর্শ দিচ্ছেন।
দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় শত শত পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকরা বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১ নভেম্বর সরকার ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথা জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ভারত পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহও রয়েছে নয়াদিল্লির।
তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জয়সওয়াল। তবে সফরের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। তার ভাষায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ আগেই জানানো হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রস্তাবিত সফরটি নানা কূটনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছে। এর আগে আগস্টে সফরের একটি পরিকল্পনা থাকলেও ভারতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান এবং বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে তার প্রকাশ্য বক্তব্যের কারণে তা এগোয়নি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে দুই দেশ নভেম্বর মাসে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে বাংলাদেশের অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অক্টোবরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, ঢাকা তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নাকচ করেনি। তবে সফরের আগে উপযুক্ত পরিবেশ এবং কার্যকর দ্বিপক্ষীয় কাঠামো নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের আগে কর্মকর্তা পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্রঃ দ্য হিন্দু
এমকে

