24.5 C
London
August 18, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফারাজের দলে ভাঙনের সুরঃ জিয়া ইউসুফের সমালোচনার পর টিম মন্টগোমেরি বরখাস্ত

 

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা রিফর্ম ইউকের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা টিম মন্টগোমেরিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে দলটি। দলের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের ধারাবাহিক সমালোচনার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

টিম মন্টগোমেরি ছিলেন রিফর্ম ইউকের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কনজারভেটিভহোমের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত এই সাবেক কনজারভেটিভ সমর্থক ২০২৪ সালের শেষ দিকে নাইজেল ফারাজের দলে যোগ দেন।

সাম্প্রতিক বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছেন জিয়া ইউসুফ। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেসকে ‘ব্রিটেনের প্রতি বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করার পর ইউসুফকে প্রকাশ্যেই ভর্ৎসনা করেছিলেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। ফারাজ বলেছিলেন, ইউসুফের ব্যবহৃত ভাষা মাত্রাতিরিক্ত হয়েছে।

ওই ঘটনার পর মন্টগোমেরিও ইউসুফের ভাষা ও আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওয়ালেসের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলেও প্রতিপক্ষকে এভাবে আক্রমণ করা দলের জন্য ‘অনুপযুক্ত ও উল্টো ফলদায়ক’। তার বক্তব্য ছিল—রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

মন্টগোমেরির সমালোচনা অবশ্য একবারের ঘটনা ছিল না। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ফারাজ ও ইউসুফের কাছে এ ধরনের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফ্রেজার নেলসনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন তিনি।

এর মধ্যেই সোমবার একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে মন্টগোমেরি ইউসুফকে আরও তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউসুফের কর্মকাণ্ড নিয়ে ফারাজও অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছেন। এরপরই তার দলীয় অবস্থান নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রিফর্ম ইউকের এই অভ্যন্তরীণ সংকটের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, দলের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। ইউসুফের কঠোর ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষা দলটির মূল সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও, তা মধ্যপন্থী ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও দলের ভেতরে রয়েছে।

বিশেষ করে বিদেশি অপরাধীদের কারাগারের সাজা যুক্তরাজ্যের বাইরে ভোগ করানোর পরিকল্পনা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে রিফর্ম ইউকের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ইউসুফের এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছিলেন বেন ওয়ালেস। পাল্টা জবাবে ইউসুফ ওয়ালেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। সেই ঘটনাই দলের ভেতরের বিভাজনকে আরও দৃশ্যমান করে।

এদিকে নাইজেল ফারাজ নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। ক্ল্যাকটন উপনির্বাচনে জয় পেলেও তার আর্থিক বিষয় নিয়ে সংসদীয় তদন্ত পুনরায় শুরু হয়েছে। পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি উপহার যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ফলে একদিকে ফারাজের নেতৃত্ব, অন্যদিকে জিয়া ইউসুফের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের ভবিষ্যৎ কৌশল—সব মিলিয়ে রিফর্ম ইউকের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

টিম মন্টগোমেরির সাময়িক বরখাস্ত সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, তিনি শুধু দলের একজন সাধারণ কর্মী নন; কনজারভেটিভ রাজনীতি থেকে রিফর্ম ইউকে-তে আসা একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ভাষ্যকার। তার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রকাশ্য বিরোধিতা এবং এরপর দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া রিফর্ম ইউকের অভ্যন্তরীণ ঐক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্রঃ দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বন্দুকধারীর গুলিতে শিশুসহ নিহত ৬

কর্মী শোষণে দ্বিতীয় ঝুঁকিপূর্ণ খাত হয়ে উঠছে যুক্তরাজ্যের নির্মাণ শিল্প

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের শিক্ষার্থীরা জিসিএসই পরীক্ষায় শীর্ষ গ্রেড পেয়েছেন