6.5 C
London
April 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ছাত্র বহিষ্কারঃ মিসরে নির্বাসনের ঝুঁকিতে ছাত্র

লন্ডনের কিংস কলেজে অধ্যয়নরত মিসরীয় ছাত্র উসামা ঘানেম ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য তাকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি তার ভিসা স্পনসরশিপ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ায় যুক্তরাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে হোম অফিস। ফলে অদূর ভবিষ্যতে তাকে মিসরে ফেরত পাঠানো হতে পারে—যেখানে তার ওপর কারাবন্দি ও নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও অবরোধের বিরুদ্ধে ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে অংশগ্রহণের ঘটনায় ঘানেমের বিরুদ্ধে “নন-একাডেমিক মিসকন্ডাক্ট”-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নিয়ম ভঙ্গ, নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি, অপমানজনক আচরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বাধা প্রদান। তিন দফা পর্যালোচনার পর মে মাসে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

২৮ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ঘানেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করতে হবে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ঘানেমের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা দণ্ড নেই। তবে ভিসা বাতিলের ফলে তিনি বর্তমানে কার্যত নির্বাসনের মুখে।

ঘানেমের দাবি, মিসরে ফিরে গেলে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে, তার ভাই ও বাবাকে আটক করে। সে সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। আটক অবস্থায় নির্যাতন, মারধর ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার বাবার মৃত্যু হয়েছে পরে। এই অভিজ্ঞতার ফলে তিনি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (PTSD) ভুগছেন বলে আইনি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের দেশভিত্তিক নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, মিসর সরকারের প্রকাশ্য সমালোচকরা ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার, আটক ও গুরুতর নিপীড়নের ঝুঁকিতে থাকেন। ঘানেমের আইনজীবীদের দাবি, এসব তথ্য জানা সত্ত্বেও কিংস কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

অন্যদিকে, কিংস কলেজ লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বৈধ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে শাস্তি দেওয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, কেবল তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হয় যখন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘন করে। ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে হোম অফিসের এখতিয়ার বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

এই ঘটনার পর কিংস কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ঘানেমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের একাডেমিক নেটওয়ার্ক কিংস রেস রিসার্চ নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষকে লেখা চিঠিতে সিদ্ধান্তটিকে “প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ঘানেমের জীবনকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘানেমের ঘটনা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান দমননীতির অংশ। একাডেমিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে ‘নিরাপত্তা’ ও ‘শৃঙ্খলা’-র অজুহাতে সীমিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

উসামা ঘানেম নিজে বলছেন, কর্তৃত্ববাদকে চ্যালেঞ্জ করাই তার অবস্থান। তার ভাষায়, “আমি মিসরের স্বৈরতন্ত্র ছেড়ে এসেছিলাম মুক্ত চিন্তার জন্য। এখন সেই একই দমননীতি অন্য রূপে দেখতে পাচ্ছি।”

সূত্রঃ সিএনএন

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ক্যানসার চিকিৎসায় ৭ মিনিটের ইনজেকশন

যুক্তরাজ্যে সময়মতো কর না দিলে £১,৬০০ পর্যন্ত জরিমানা ও সুদের বোঝাঃ এইচএমআরসি’র সতর্কবার্তা

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন আইনে পরিবর্তন

অনলাইন ডেস্ক