18.8 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

বার্মিংহামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্ত্রীর নির্যাতনের ভিডিও আদালতে

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ট্যাক্সিচালকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে বেল্ট দিয়ে মারধর, গলা চেপে ধরা এবং দীর্ঘদিন মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে আদালত সেই সাজা তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখায় আপাতত তাকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, বার্মিংহামের লোজেলস এলাকার জেরার্ড স্ট্রিটের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী শরীফ উদ্দিন কাপড় ধোয়া নিয়ে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্ত্রীকে বেল্ট দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। মারধরের সময় তিনি স্ত্রীকে বারবার জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কি আমার নিয়ম মেনে চলছ?” ভুক্তভোগী নারী নিজের মোবাইল ফোনে ওই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

মামলার শুনানিতে আরও জানানো হয়, পরবর্তী আরেকটি ঘটনায় শরীফ উদ্দিন কয়েক সেকেন্ড ধরে স্ত্রীর গলা চেপে ধরেন। সেই ঘটনাও ভুক্তভোগী ভিডিওতে ধারণ করেন। আদালতের মতে, এই ভিডিওগুলো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের তুলনামূলক স্বল্প সময়ের বিয়ের পুরো সময়জুড়েই শরীফ উদ্দিন স্ত্রীকে নিয়মিত মানসিকভাবে অপমান করতেন। তিনি স্ত্রীকে “ভুল”, “রাস্তার মেয়ে” এবং “তুমি আমার যোগ্য নও”—এ ধরনের অবমাননাকর ভাষায় গালিগালাজ করতেন। এসব আচরণও মামলার শুনানিতে তুলে ধরা হয়।

আদালতে শরীফ উদ্দিন স্ত্রীকে গুরুতর শারীরিক আঘাত করার উদ্দেশ্যে হামলা এবং গলা চেপে শ্বাসরোধের অভিযোগ স্বীকার করেন। এরপর বিচারক তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে তিন বছরের জন্য সেই দণ্ড স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়ায় আপাতত তাকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে না। তবে এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো অপরাধ করলে বা আদালতের আরোপিত শর্ত ভঙ্গ করলে স্থগিত কারাদণ্ড কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গলা চেপে ধরা বা শ্বাসরোধের ঘটনাকে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী সহিংসতার অন্যতম বড় সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা এবং ভিডিও, ছবি বা অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ করা বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই মামলায় ভুক্তভোগীর ধারণ করা ভিডিওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে।

সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবেঃ প্রধান উপদেষ্টা

এআই অপব্যবহারে কড়া সতর্কবার্তাঃ আপার ট্রাইব্যুনালের কঠিন বার্তা ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের

যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ডে হোম অফিসের লিজ নেওয়া ভবন খালি, শরণার্থীদের স্থানান্তর অনিশ্চিত