12.7 C
London
October 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের স্বীকৃতি পেল রংপুরের কারখানাঃ আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের স্থাপত্যশিল্পে নতুন অর্জন যুক্ত করেছে রংপুরের ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’। ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছে কারুপণ্য রংপুর লিমিটেডের পরিচালনাধীন এই শিল্পকারখানা। শ্রমিকদের কল্যাণ, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ স্থাপত্যের সমন্বয়ে তৈরি ভবনটি বিশ্বের অন্যতম সেরা নতুন স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সাততলাবিশিষ্ট এই কারখানায় প্রধানত হাতে তৈরি কার্পেট, ডোরম্যাট ও বাথম্যাট উৎপাদন করা হয়। তবে ভবনটির বিশেষত্ব শুধু শিল্প উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। প্রচলিত কারখানার নকশার বাইরে গিয়ে শ্রমিকদের স্বাচ্ছন্দ্য, সামাজিক মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

কারখানাটির নকশা করেছে বাংলাদেশের স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান নকশাবিদ আর্কিটেক্টস। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার। বাংলার চিরাচরিত গ্রামীণ বাড়ির উঠোন, বারান্দা, বাগান ও জলাশয়ের ধারণাকে আধুনিক শিল্পভবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কারখানাটি কেবল উৎপাদনের জায়গা নয়, শ্রমিকদের জন্য তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ তৈরির একটি উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী এই কারখানায় কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই নারী। তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ভবনে উঠোন, বাগান, জলাশয় ও ছায়াঘেরা বারান্দার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ছাদের ওপর রয়েছে শিশুদের জন্য দিবাযত্নকেন্দ্র ও চিকিৎসাকেন্দ্র। এসব সুবিধা কর্মীদের কাজের পাশাপাশি সন্তানদের দেখাশোনা এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক।

ভবনটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশা। মালিক, ব্যবস্থাপক ও সাধারণ শ্রমিকদের জন্য একই প্রধান প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে পদমর্যাদার ভিত্তিতে আলাদা প্রবেশপথ রাখার প্রচলিত রীতির বাইরে এই ব্যবস্থা শ্রমিকদের সমান মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দেয়। স্থাপত্যের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রের সামাজিক বিভাজনকে চ্যালেঞ্জ করার এই দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকল্পটির বিশেষত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যকর্মকে স্বীকৃতি দেয়। ভবনের নকশা, নির্মাণের মান, ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং বৃহত্তর সামাজিক প্রভাবসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এ পুরস্কারের জন্য প্রকল্প নির্বাচন করা হয়। রংপুরের গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্থাপত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে পরিচিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার নকশায় শ্রমিকদের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছে।

২০২৬ সালের পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বাংলাদেশের আরেকটি স্থাপনা ঢাকার জলবায়ু-সহনশীল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল। পাশাপাশি তালিকায় জায়গা পেয়েছিল বেলজিয়ামের দুটি প্রকল্প। একই তালিকায় বাংলাদেশের দুটি স্থাপনার উপস্থিতি দেশের স্থাপত্যচর্চার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।

এর আগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় অবস্থিত ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছিল। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উপযোগী পরিবেশবান্ধব নকশার জন্য হাসপাতালটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়। এক দশক পর রংপুরের একটি শিল্পকারখানার এই স্বীকৃতি দেখাল, বাংলাদেশের স্থাপত্যের সাফল্য শুধু হাসপাতাল বা জনকল্যাণমূলক ভবনে সীমাবদ্ধ নেই; শিল্প উৎপাদনের স্থাপনাও বিশ্বমানের নকশা ও সামাজিক ভাবনার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরির এই অর্জন বাংলাদেশের শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত কারখানার নকশায় উৎপাদনক্ষমতা ও পরিচালন ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে কর্মীদের কল্যাণ, পরিবেশ এবং সামাজিক সমতার বিষয়গুলোকে স্থাপত্যের অংশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিল্পকারখানা নির্মাণে শ্রমিকবান্ধব ও পরিবেশসচেতন নকশার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে।

সূত্রঃ রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস

এমকে

আরো পড়ুন

পিরানহায় ভর্তি জলাশয়ে ফেলে হত্যা! বিদ্রোহীদের জন্য নতুন শাস্তি খুঁজে পেয়েছেন কিম

কোচিং সেন্টার থেকে অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধার, বাড়ি ঘিরে রেখেছে যৌথ বাহিনী

সিলেট সীমান্তে চলছে গরু,চিনি ও আওয়ামীলীগ নেতাদের ভারতে পাঠানোর কারবার